ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়েনি ঢাকাবাসীর, ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তেই আছে
রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। এক মাসেই এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪শ’ জন। আর গত আট মাসে মারা গেছেন ১০ জন। এত কিছুর পরেও ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়েনি নগরবাসীর।
বর্ষাকাল বিদায় নিলেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু মৌসুম। তাই এ রোগ নিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। এখনো প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন গড়ে ২০ জন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানী ঢাকায় বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এ সময়কে ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম ধরা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আগাম বৃষ্টি হওয়ায় মশার উপদ্রবও বাড়ে আগে আগে। তারপর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। আর এসব স্থানেই বংশবিস্তার করে এডিস মশা। বর্ষা মৌসুম এডিস মশার বিস্তার ও প্রজননের সবচেয়ে অনুকূল সময়। ফলে ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ও বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে, এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার পাঁচ’শ ৭৪ জন। মে মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৫ জন। জুন মাসে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৭৫ জনে, জুলাই মাসে ৮৮৫ জন আর আগস্টে তেরশো ২৭ জন।
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিন ফ্লোরা জানান, প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো ডেঙ্গুতে আক্রান্তরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং তাদের আত্মীয়রা মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকে দায়ী করছেন। তারা বলেন, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন জোরালো কোন পদক্ষেপ নেয়নি, এর ফলে ডেঙ্গু মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে।
তবে, মশক নিধন কর্মসূচি চলছে বলে দাবি সিটি কর্পোরেশনের। ডেঙ্গু জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে নাগরিকদের সচেতন থাকার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন গত ১৯ মার্চ এক সভায় এডিস মশার জীবাণু পেলে বাড়ির মালিককে জেল ও জরিমানা করার ঘোষণা দেন। এ কার্যক্রম নিয়মিত চলছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসাীরা। তবে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রমও নিয়মিত চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইমদাদুল হক বলেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এটির প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা। এ মৌসুমে জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবার পরামর্শও দেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই