হুন্ডির মাধ্যমে জার্মানিতে টাকা পাঠাতেন খালেদ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

হুন্ডির মাধ্যমে জার্মানিতে টাকা পাঠাতেন খালেদ





ক্যাসিনো ডন খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ক্যাসিনো থেকে উঠানো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে জার্মানিতে তার সহযোগীদের কাছে পাঠাতেন। ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহের মধ্যে পড়তে পারেন সেই 
বিষয়টি লক্ষ্য রেখে তিনি চালাকির আশ্রয় নিয়েছিলেন। মতিঝিল ক্লাবপাড়াসহ যেসব স্থান থেকে ক্যাসিনোর টাকা উঠাতেন ওই টাকার ভাগবাটোয়ারা করে তার ভাগে যত টাকা থাকতো সেই টাকা তিনি বিদেশে পাঠাতেন। র‌্যাব ও পুলিশের তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা তার তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো লেনদেনের তথ্য পায়নি। বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে অর্থ রাখার বিষয়টি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ওই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতেন বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন। পল্টন থানা যুবলীগের সদস্য রাকিব হোসেন নামে তার গ্যাংয়ের সদস্য জার্র্মানিতে থাকেন। রাকিব মতিঝিলের সুমন হত্যার অন্যতম আসামি।
রাকিব প্রথমে লিবিয়া প্রবাসী ছিলেন। পরে সমুদ্র পথে ইতালি হয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করেন। তার কাছে সেই হুন্ডির টাকা তিনি পাঠাতেন। তবে কত টাকা তিনি পাঠাতেন সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা। ক্য্যাসিনো কিং খালেদকে র‌্যাব আটকের পর গুলশান থানায় মামলা হয়। এরপর গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম তাকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে খালেদ থাকলেও তার কাছে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের দাবি। পরে র‌্যাব খালেদকে পুনরায় ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। রিমান্ড আবেদনে র‌্যাব জানায় যে, খালেদ একজন ক্যাসিনো ডন। এ ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র দিয়ে তিনি ঢাকার বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড করছেন। বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। পরে আদালত তাকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম মানবজমিনকে জানান, দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেয়া তথ্যের তদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে যারা ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্যাসিনো থেকে উঠানো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে খালেদ জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাতো।
র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মতিঝিল ক্লাবপাড়াসহ যেসব স্থানে ক্যাসিনোর হাট ছিল সেসব স্থান থেকে টাকা উঠানোর মূল দায়িত্ব ছিল খালেদের। ওই টাকার ভাগবাটোয়ারা হতো। মোটা অঙ্কের টাকা যেতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের কাছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ওই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হয়। কারণ মোটা অঙ্কের টাকা খালেদ বিদেশে পাঠিয়ে দিতো। তবে ওই বিরোধের অবসান ঘটান যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

সূত্র জানায়, টাকা উঠানোর ক্ষেত্রে খালেদের প্রাধান্য থাকার কারণে খালেদ সবার অগোচরে ক্যাসিনো থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন।

সূত্র জানায়, মতিঝিলের এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তিনি ওই টাকা বিদেশে পাঠাতেন। খালেদ কখনো নিজে গিয়ে ওই হুন্ডি ব্যবসায়ীকে টাকা দিয়ে আসতেন। কখনো আবার তার সহযোগীদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আসতেন। এ ছাড়াও খালেদ ছাড়াও ওই এলাকার উঠতি সন্ত্রাসীসহ একাধিক গডফাদার হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠাতো। এতে হুন্ডি মাফিয়ার একটি চক্র গড়ে উঠেছিল। ওই হুন্ডি ব্যবসায়ীকে আটকের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, খালেদকে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে এসেছে আরো একটি তথ্য। ঢাকার এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন জিসান। তিনি এখন জার্মানিতে অবস্থান করছেন বলে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই জিসানের কাছেও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতো খালেদ। র‌্যাবের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, খালেদ পুলিশের প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে টাকা রাখা বা তিনি কোথায় টাকা পাঠাতেন সেটি স্বীকার করেননি। দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে টাকা রাখার বিষয়টি তিনি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন। হুন্ডি বাদে তিনি অন্য কোথায়ও টাকা পাঠাতেন কিনা তা তদন্ত করে দেখছে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা।



কোন মন্তব্য নেই