হুমকির মধ্যেই রুশ সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করেছে ইরান
হুমকির মধ্যেই রুশ সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করেছে ইরান
অনলাইন ডেস্ক | TimesExpress24
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৭:১৮ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য বিমান হামলার হুমকির মধ্যেও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়ন জোরদার করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান বর্তমানে রাশিয়ার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত কাজ করছে।
অপারেশন রাইজিং লায়নের পর ইরানের প্রস্তুতি
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোয় ক্ষতি করেছে। এর পরই তেহরান বহুমুখী কৌশল হাতে নেয়—
-
ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ ও বাঙ্কার পুনর্গঠন
-
দীর্ঘপাল্লার হামলা সক্ষমতা বজায় রাখা
-
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে তাৎক্ষণিক আঘাত হানার প্রস্তুতি
ইরানের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অস্ত্রসমূহ
শাবাব সিরিজ ও ‘খাইবার শেকান’
ইরানের শাবাব সিরিজ ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে জানায় প্রতিবেদন।
-
খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র
-
রেঞ্জ: প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার
-
বিস্ফোরক বহন ক্ষমতা: ৭০০–১,০০০ কেজি
-
সমগ্র ইসরায়েল এই রেঞ্জের আওতায়
-
হাইপারসোনিক ক্ষমতার ফাত্তাহ-১ ও ফাত্তাহ-২
-
অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম
-
বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ও বাইরে গতি পরিবর্তন
-
ওয়ারহেড: প্রায় আধা টন
সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র
-
দুই স্তরের শক্ত জ্বালানি চালিত
-
ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে খুব স্বল্প সময়ে উৎক্ষেপণযোগ্য
খোররামশাহর
-
ইরানের অন্যতম নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
-
ওয়ারহেড ক্ষমতা: ১,৫০০ কেজি
রুশ সহায়তায় শক্ত জ্বালানি প্রযুক্তিতে ঝোঁক
জেরুজালেম পোস্টের দাবি—
ইরান এখন রাশিয়ার সহায়তায় তরল জ্বালানি থেকে শক্ত জ্বালানি প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর করছে। এর ফলে—
-
উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সময় কয়েক ঘণ্টা → কয়েক মিনিট
-
গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে হঠাৎ আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি
নতুন রাডার ও ভূগর্ভস্থ লঞ্চ কেন্দ্র
ইরান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে—
-
নতুন রাডার সিস্টেম নির্মাণ
-
গভীর ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপন
-
মোবাইল লঞ্চার বাড়ানো—যা ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের জন্য বড় মাথাব্যথা
আন্তর্জাতিক মহল মনে করে, ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরদারিকে কঠিন করে তুলেছে।

কোন মন্তব্য নেই