বান্দরবানে নানা আয়োজনে মারমা সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বান্দরবানে নানা ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে উদ্যাপিত হচ্ছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব ‘মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ বা প্রবারণা পূর্ণিমা। উৎসব ঘিরে বুদ্ধমূর্তি স্নান, প্রার্থনা, অন্নদান, প্রদীপ প্রজ্বালন, ফানুস ওড়ানো এবং ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল রথযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সম্প্রদায়ের মানুষ।
মারমা ভাষায় ‘ওয়াগ্যোয়াই’ অর্থ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং ‘পোয়েঃ’ অর্থ উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন মারমা সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
ধর্মীয় আচার ও অন্নদান
উৎসব উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে ভক্তদের সমাগম ঘটে। বিহারে বুদ্ধমূর্তির সামনে প্রার্থনা, ভিক্ষুদের উদ্দেশে অর্থ ও অন্নদান এবং পঞ্চশীল গ্রহণের মতো ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরাও উৎসবে যোগ দেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি তাঁদের অংশগ্রহণে উৎসবের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
ফানুস ও ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল রথ
প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম আকর্ষণ ফানুস ওড়ানো এবং ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল রথ। উৎসব উপলক্ষে ফানুস উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা। পাশাপাশি সাঙ্গু নদে ভাসানোর জন্য প্রস্তুত করা হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল রথ।
এ ছাড়া উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে দেবতার মূর্তি, যা মারমা ভাষায় ‘পোছোমা’ নামে পরিচিত।
ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির উৎসব
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছে ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুশীলন, দান ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা আরও জোরদার হয়।
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের এই আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এসব আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখছেন তাঁরা।
ছবি: মং হাই সিং মারমা, বান্দরবান

কোন মন্তব্য নেই