খুলনায় ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই খুন, দুটিতেই মাদক বিরোধের সন্দেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
খুলনা নগরে প্রায় ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় খুন হন খুশি (২৫) নামে এক গৃহবধূ। প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনার পেছনেই মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ড দুটির প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সন্ধ্যায় গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে খুলনা নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকার বউবাজারের সাত নম্বর গলির মুখে খুশিকে গুলি করা হয়। তিনি ওই এলাকার খোকন শেখের মেয়ে এবং সুমন সরদারের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছিলেন খুশি। বাড়ি থেকে কয়েক মিটার দূরে আগে থেকেই অবস্থান করা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর মাথায় গুলি লাগে। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারফ হোসেন জানান, খুশি একা বের হয়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসার কাছেই দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খুশি ও তাঁর স্বামী সুমন সরদার ওরফে ব্লেড বাবু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সকালে যুবককে গুলি করে হত্যা
গৃহবধূ খুশি হত্যার প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নগরের সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার আনসার আলী গলির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালায়। এতে তাওহিদুলের পিঠে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, তাওহিদুল কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে পুলিশের তথ্য রয়েছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাওহিদুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নয় মাসে খুলনা নগরে ৩৩ হত্যাকাণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে খুলনা মহানগরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩১টি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের তালিকায় নগরে অন্তত ১০টি শীর্ষ অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিশোধের জেরে এসব চক্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একই দিনে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের পৃথক দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই