বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ১৮টি মসজিদ
মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য নির্মিত স্থাপনা হলো মসজিদ। যার আভিধানিক অর্থ শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা অর্থৎ সিজদাহ করা। সাধারণভাবে, যেসব ইমারত বা স্থাপনায় মুসলমানেরা একত্র হয়ে প্রাত্যহিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, তাকে মসজিদ বলে। মসজিদ মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাবলীর প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রার্থণা করা ছাড়াও শিক্ষা প্রদান, তথ্য বিতর়ণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে সবাই চায় একটি সুন্দর, মসজিদ নির্মাণ করতে। ফলে মসজিদের নির্মাণ শৈলী হয়ে উঠে শিল্পের পর্যায়। পৃথিবীতে নানান সুন্দর স্থাপনার মধ্যে মসজিদও আছে। ওয়ান্ডারলিস্ট প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ২০ টি মসজিদের একটি তালিকা বের করেছে। চলুন দেখে আসি।
১। মসজিদ আল-হারাম, মক্কা, সৌদি আরব।

মসজিদ আল-হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান যা কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। সৌদি আরবের মক্কা শহরে এর অবস্থান। মুসলিমরা নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। হজ্জ ও উমরার জন্যও মসজিদুল হারামে যেতে হয়।ভেতরের ও বাইরের নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৩,৫৬,৮০০ বর্গমিটার জুড়ে অবস্থিত। মসজিদ সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম।
২। মসজিদে নববী, মদিনা, সৌদি আরব।

মসজিদে নববী মুহাম্মদ (সা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। মুহাম্মদ (সা) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। মসজিদ দিনরাতের সবসময় খোলা থাকে।
৩। আল-আকসা মসজিদ।

মসজিদুল আকসা আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ।জেরুজালেমের পুরনো শহরে এটি অবস্থিত। এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়।এছাড়াও স্থানটি “টেম্পল মাউন্ট” বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।
ইসলামের বর্ণনা অণুযায়ী মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ইবনে তাহমিয়ার মতে , আসলে সুলাইমান এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা।
৪। নীল মসজিদ, ইস্তাম্ভবুল।

তুরস্কের অন্যতম শহর ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর তীর ঘেঁষে মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শন কোলে নিয়ে মাথা উঁচু দাঁড়িয়ে আছে ‘সুলতান আহমেদ মসজিদ’। তবে মসজিদটি তার নীল গম্বুজের কারণে সবার কাছে ‘ব্লু মসজিদ’ নামে বেশি পরিচিত। মসজিদটি ১৬০৯ থেকে ১৬১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উসমানি সুলতান প্রথম আহমেদ কর্তৃক নির্মিত হয়। ঐতিহাসিক এ মসজিদটির স্থপতি ছিলেন- মুহাম্মদ আগা।
৫। শাহ ফয়সাল মসজিদ, ইসলামাবাদ।

ফয়সাল মসজিদপাকিস্তানের বৃহত্তম মসজিদ, যা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত। মসজিদটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তুর্কি স্থপতি ভেদাত ডালোকে এর ডিজাইন করেন। মসজিদটি দেখতে অনেকটা মরুভূমির বেদুঈনদের তাঁবুর মতো। সারা পৃথিবীতে এটি ইসলামাবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ এই মসজিদ নির্মাণে সমর্থন এবং অর্থ সাহায্য প্রদান করেন। তাই এই মসজিদটি শাহ্ ফয়সালের নামে নামকরণ করা হয়।এই মসজিদটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মসজিদটি পৃথিবীর বৃহত্তম মসজিদ ছিলো। পরবর্তীতে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় হাসান ২ মসজিদ নির্মাণ হলে ফয়সাল মসজিদ তার অবস্থান হারায়।
৬। দ্বিতীয় হাসান মসজিদ, মরক্কো।

মরক্কোর দ্বিতীয় হাসান মসজিদের মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার। বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদসমূহের মধ্যে এটি একটি। মরক্কোর উপকূলীয় শহর কাসাব্ল্যাংকা’য় দ্বিতীয় হাসান মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটির একাংশ পানির উপর অবস্থান করছে।
৭। সুলাইমানিয়া মসজিদ, তুরস্ক।

যাকে ধরণীর বেহেশত মসজিদ বলা হয়। এটি তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলোর অন্যতম এবং ইস্তাম্বুল শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হিসেবে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাট, সুলতান প্রথম সুলাইমানের নির্দেশে তৎকালীন প্রখ্যাত স্থাপত্যবিদ ‘মিমার সিনান’ এটি নির্মাণ করেন।১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় ৩,৫০০ শ্রমিক সাত বছরের মাথায় এটির নির্মাণকাজ শেষ করেন।
৮। শেখ জায়েদ মসজিদ, আবুধাবি।

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম একটি উপাসনাল। এ মসজিদ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম ও সুন্দরতম মসজিদ। মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে আরব আমিরাত এর প্রয়াত রাষ্ট্র প্রধান শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাইয়ানের নামানুসারে।
৯। নুসরাত জাহান মসজিদ, কোপেনহেগেন.

একটু ব্যতিক্রমী ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি। এটি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন শহরে অবস্থিত। নুসরাত জাহান মসজিদটি মাশরুমের মতো গম্বুজবিশিষ্ট।
১০। জাহির মসজিদ। মালয়েশিয়া।

জাহির মসজিদ। মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশের রাজধানী আলোর সেতারে অবস্থিত। এটি কেদাহ প্রদেশের কেন্দ্রীয় মসজিদ। ১৯১২ সালে নির্মিত মসজিদটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর একটি। নির্মাণশৈলীর দিক থেকে পৃথিবীর শীর্ষ ৩০টি মসজিদের এটি একটি।
১১। উমাইয়া মসজিদ, দামেস্ক।

উমাইয়া মসজিদ, দামেস্ক গ্রেট মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।
এই মসজিদটি দামেস্কের পুরাতন শহরে অবস্থিত, যা বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুসলমানদের একটি অংশের মতে এটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের চতুর্থ পবিত্র স্থান।
১২। গ্র্যান্ড মসজিদ, করডোবা,স্পেন।
এই মসজিদটি দামেস্কের পুরাতন শহরে অবস্থিত, যা বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুসলমানদের একটি অংশের মতে এটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের চতুর্থ পবিত্র স্থান।
১২। গ্র্যান্ড মসজিদ, করডোবা,স্পেন।

কর্ডোভার এই ঐতিহাসিক মসজিদটি খলিফা প্রথম আব্দুর রহমানের আমলে ৭৮৪ থেকে ৭৮৬ সালে নির্মিত হয়। মুসলমানরা প্রায় ৫শ’ বছর এই মসজিদে নামায আদায় করে।
১৩।বুরসা গ্র্যান্ড মসজিদ, তুরস্ক।

বুরসা মসজিদটি ২০ গম্বুজবিশিষ্ট। এটি স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার এক নিদর্শন।
১৪। মারে মসজিদ, অস্ট্রেলিয়া

অনেকটা ছনের ঘরের মতো দেখতে স্থাপনাটিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম মসজিদ হিসেবে ধারণা করা হয়। এটি ১৮৬১ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৫। কুলশরিফ মসজিদ, রাশিয়া

ষোড়শ শতকে নির্মাণের সময় রাশিয়ার কাজানের কুলশরিফ মসজিদটি ছিল গোটা উইরোপে সবচেয়ে বড়। একটি মিনার ও চারটি গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি ইসলামী স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
১৬। ক্রিস্টাল মসজিদ, মালয়েশিয়া.

ক্রিস্টালের সঙ্গে স্বচ্ছ কাচ ও স্টিল দিয়ে বানানো হয়েছে মসজিদটি। স্বচ্ছতার কারণেই মসজিদটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার তেরেনগানু এলাকার ‘পোলা ও ওয়ান ম্যান’ দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব এই নিদর্শন।
১৭। লন্ডন কেন্দ্রীয় মসজিদ

লন্ডন শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি লন্ডন মুসলিম সেন্টার ও মারিয়াম সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম, যেখানে একসঙ্গে সাত হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
১৮। দ্য গ্রেট মস্ক অব শিয়ান, চায়না।

মসজিদটি ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে টংকার রাজবংশের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে। পরে মিং রাজবংশের রাজত্বকালে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির দেয়াল ১২ হাজার বর্গমিটারের, যেখানে পবিত্র কোরআনের সব আয়াত লেখা রয়েছে।-faporbaz
কোন মন্তব্য নেই