পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের শক্তিশালী অবস্থান আমেরিকাকে চিন্তিত করে তুলেছে
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসি'র কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি বলেছেন, বিশ্বে আমেরিকার মোড়লিপনার দিন শেষ হয়ে আসছে এবং তার দেশের সমর শক্তি এতটা উন্নত হয়েছে যে, আমেরিকা এখন আর তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেয়ার সাহস দেখায় না।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে আমেরিকার অনেক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদ মনে করেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার অপশন খোলা রয়েছে' এমন কথা বলার সাহস এখন আর আমেরিকানদের নেই।
ইরাক ও সিরিয়ার জনগণ যদি ইরানের সামরিক উপদেষ্টাদের পাশে না থাকত তাহলে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে বিরাট বিপর্যয় নেমে আসত উল্লেখ করে আইআরজিসি'র কমান্ডার বলেছেন, জিহাদ ও প্রতিরোধের কারণে ইরাক ও সিরিয়ায় আমেরিকার লজ্জাজনক পরাজয় ঘটেছে এবং সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয় এবং ইরাক ও সিরিয়া থেকে তাদের পলায়নের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, একচেটিয়া কর্তৃত্ব ও প্রক্সিযুদ্ধের দিন শেষ হয়ে আসছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্র ও শিক্ষকের সমাবেশে বিশ্বে আমেরিকার অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন, বিশ্বে আমেরিকার শক্তি ও প্রভাব ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে এবং ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরের তুলনায় আমেরিকা অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে নিরাপত্তাহীনতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে আমেরিকার ভূমিকার বিষয়টি প্রমাণিত। আল কায়দা সৃষ্টি ও দায়েশ সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে আমেরিকা পশ্চিম এশিয়াকে কার্যত ধ্বংস্তুপে পরিণত করেছে এবং ইরাক ও সিরিয়াকে প্রায় এক দশক ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ব্যস্ত রেখেছে। কিন্তু এসব যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর আমেরিকা এখন এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করছে।
মার্কিন দৈনিক বোস্টন গ্লোব সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি এবং সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও তার আরব মিত্রদের অভিযোগের সমালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ হচ্ছে ইসলামি এই দেশটি এ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য ও হস্তক্ষেপের বিরোধী আর এটাই ইরানের অপরাধ।
আমেরিকা, দখলদার ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশ ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে যেন তারা এটা ভুলে গেছে যে তারাই ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়া যুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। এমন সময় এসব অভিযোগ করা হচ্ছে যখন ইরান যদি প্রতিরোধ গড়ে না তুলত তাহলে দায়েশ সন্ত্রাসীরা সমগ্র এই এলাকার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করত এবং রক্তপাত ঘটিয়েই চলত। প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা আমেরিকাকে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করে তুলেছে।
এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবেলায় ইরানের স্পষ্ট নীতি রয়েছে। ইরান মুসলিম দেশগুলোর বিভক্ত হয়ে যাওয়ার বিরোধী এবং সবসময়ই বিদেশি হুমকি মোকাবেলার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা ও দেশটির গ্রহণযোগ্যতা আজ অনস্বীকার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।-পার্সটুডে

কোন মন্তব্য নেই