মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ চট্টগ্রামের জনপ্রিয় রাজনীতিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মেয়র চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী লাখো মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াকু যোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের প্রগতিশীল রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। চট্টগ্রামের মানুষ তার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন আরেক জনপ্রিয় রাজনীতিক জহুর আহমদ চৌধুরীর প্রতিচ্ছবি। একাত্তরের মাউন্টেন ডিভিশনের অধিনায়ক এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ধ্যান জ্ঞান ছিল প্রিয় চট্টগ্রাম নিয়েই। বুকে হাত রেখে বলতেন, ‘আমার চট্টগ্রাম।’ পর পর তিন মেয়াদে


মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে যান অন্যরকম এক উচ্চতায়। গড়ে তোলেন স্বয়ংসম্পূর্ণ এক প্রতিষ্ঠানে। তার কার্যালয় এবং বাসভবন থাকত সর্বদা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় মরহুমের কবর প্রাঙ্গণে খতমে কোরআন, কালো ব্যাজ ধারণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কবর পার্শ্বস্থ শেখ ফরিদ চশমা মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০:৩০ মিনিটে মরহুমের কবরে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এছাড়া বিকাল ৩টায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অনুরোধ জানিয়েছেন।
পাকিস্তান আমলে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশ শত্রুমুক্ত করার আন্দোলন করায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দলের অস্তিত্ব ধরে রাখায় বারবার শাসক গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তারপরও রাজনীতি ছাড়েননি। আঘাত পেয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এভাবেই দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছিলেন। পেয়েছিলেন ‘চট্টলবীর’ উপাধি। তাইতো দল, মত নির্বিশেষে সবাই প্রয়াত এই নেতার প্রশংসাই করেছেন।


১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বঙ আলী চৌধুরী বাড়িতে তার জন্ম। বাবা হোসেন আহমদ চৌধুরী আর মা বেদুরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন ছিলেন মেজ। তার বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। বাবার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন পড়াশুনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, নগরীর কাজেম আলী ইংলিশ হাই, আর প্রবর্তক সংঘে। স্কুল জীবনেই তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া মহিউদ্দিন ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই মহিউদ্দিন চৌধুরী জহুর আহমদ চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৬৮ ও ’৬৯ সালে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআই (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দফতরের কাছ থেকে আটক হন। এরপর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয় চার মাস। পরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সম্মুখ সমরে। যুদ্ধ করেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।


সম্মুখ সমরের যোদ্ধা মহিউদ্দিন স্বাধীনতার পর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ পান। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন। পঁচাত্তরে জাতির জনক সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ‘মুজিব বাহিনী’ করেন। সে সময় ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলার আসামি করা হলে তিনি পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরেন। দেশে আসলে তার ওপর আরোপিত হয় একের পর এক হুলিয়া। শুরু হয় সামরিক বাহিনীর হাতে নির্যাতন আর একের পর এক কারাভোগ। শেখ হাসিনার হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দিতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
এরশাদ সরকারের শাসনামলে স্বয়ং এরশাদকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সরকারের চক্ষুশূল হন মহিউদ্দিন। এসময় আবারও রাজনৈতিক বন্দি জীবন কাটে তার। ততদিনে চট্টগ্রামের আপামর জনতার নয়নের মণি হয়ে উঠেন মহিউদ্দীন চৌধুরী। পরবর্তীতে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির অন্যতম সুপুরুষ বলে বিবাচিত হন সর্ব মহলে। ‘৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ে দুস্থ জনতার পাশে দাঁড়িয়ে, অসহযোগ আন্দোলনে খালেদার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গরিব-দুখী-শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে মহিরুহে পরিণত হন মহিউদ্দিন।

কোন মন্তব্য নেই