নন্দনপুরে জীবন পথের প্রদীপ
পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। এ গ্রামেই গড়ে উঠেছে ‘জীবন পথের প্রদীপ’ নামে একটি পাঠাগার। নাসিরুজ্জামান রাজু ওরফে এম এন রাজু মিয়া নামের এক যুবকের একান্ত প্রচেষ্টায় ২০১৮ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছে এ পাঠাগারের। এখন এ পাঠাগার থেকে লেখাপড়া করছেন বই পিপাসুরা। জীবন পথের প্রদীপ থেকে আলোকিত হচ্ছে সারা নন্দনপুর।
এম এন রাজু মিয়া জানান, স্কুলজীবনে তার দুই কাছের বন্ধু মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। সেই মাদকের ভয়াল থাকা থেকে তারা আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। সেই থেকে তার ইচ্ছে ছিলো। এমন কিছু করার যাতে যুব সমাজ মাদক থেকে দুরে থাকতে পারে। তার সেটির একমাত্র উপায় হচ্ছে বই। বই পারে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।
২০০৭ সালের রাজু যখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন এ পাঠাগার করার উদ্যোগ নেন। কয়েকজন বন্ধু মিলে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
ওই সময় নির্দিষ্ট কোন জায়গা ছিলো না বলে তারা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসতেন। কেউ গল্পের, কেউ উপন্যাস আর কেউ বিজ্ঞান বা কবিতার বই পড়ে। গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বই নিয়ে পরে তা দিয়ে দিতো।
এরপরে ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নন্দনপুর বাজারে একটি রুমে আলাদাভাবেই ‘জীবন পথের প্রদীপ’ নামে পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০০টির বেশি বই নিয়ে গড়ে উঠেছে।
‘জীবন পথের প্রদীপ’ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা রাজু জানান, তিনি বর্তমানে রাজশাহী কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত। নন্দনপুরে পাঠাগার পরিচালনার জন্য কমিটি করা হয়েছে।
ওই কমিটির অধিনেই পাঠাগার চলছে।
এ পাঠাগারের সদস্য সংখ্যা ১০০ জনের বেশি। দিনে দিনে এ সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন এ পাঠাগারে ২০ থেকে ২৫ জন বই পিপাসু মানুষ নিয়মিত যাতাযাত করেন জ্ঞান চর্চার জন্য।
রাজু জানান, পাঠাগারের মুল উদ্দেশ্য দরিদ্র মেধাবি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহযোগিতা করা। এরই প্রেক্ষিতে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস, শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
শুধু তাই না, গ্রামের শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা। সেই সঙ্গে বাল্যবিয়ে বোধ, গ্রামাঞ্চলের নারীদের যৌন নির্যাতন বন্ধে প্রচার চালানো। যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রেখে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো। নারীদের শিক্ষার প্রসার ঘটানো নিয়েও পাঠাগারের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।
প্রথমে একাই শুরু করলেও পরে অনেকেই সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। তিনি নিজেও বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজনের মাঝে বই নিয়ে সংগ্রহ বেশি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজু পাঠাগারের কার্যক্রমকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগের নাম্বার ০১৬৩৭৯৭০৪১১।

কোন মন্তব্য নেই