ড: এ.কে আব্দুল মোমেন পরিচিতি
![]() |
| ড: এ.কে আব্দুল মোমেন |
ড. এ.কে আব্দুল মোমেন একজন মানবতাবাদী, মানবদরদী। তার প্রমাণ স্বরুপ বলা যায় যে, তিনি বাংলাদেশের নারী ও শিশু পাচার বন্ধে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেন। যার ফলে ১৯৯২ সালে বোম্বে থেকে ২৫টি শিশু এবং পাকিস্তান থেকে অসংখ্য মেয়েকে ফিরিয়ে আনেন। নারী ও শিশু পাচার বন্ধ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের খৎনা, শিশুদের উটের ঝুঁকি বন্ধকরণ সহ বিশে^ জনমত গড়ে তোলেন। যার প্রেক্ষিতে ড. মোমেনের বলিষ্ট ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৯৪ সালে দুটি বিল পাশ করে। ড. মোমেনের এই উদ্যোগ বিশ্বমিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন সাক্ষাৎ করে অনুপ্রেরণা যোগান।
ড. মোমেন বোস্টনের ‘‘উইম্যান এন্ড চিলড্রেন’’ মানবিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। সিনেটর কেনেডির পত্র নিয়ে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ ও ভূক্তভোগীদের পুনর্বাসনের জন্য তহবিল গড়ার আহবান জানান।
ড. মোমেন-কে ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মানব কল্যাণে অবদানের জন্য মার্কিন পত্রিকা ঈগল ট্রাইবুন ‘‘হোম টাউন হিরো’’, মেডিকেল এসোসিয়েশন ‘‘হিউমেনিটারিয়ান এ্যাওয়ার্ড’’ ও নিউ ইয়র্কের প্রবাসী সংস্থা ‘‘ফ্রেন্ডস অব দি পুওর’’ উপাধিতে ভূষিত করে।
ড. মোমেন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়া সন্দ্বিপে স্কুল কাম সেন্টার স্থাপনে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার দানে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ঢাকার মহিলা পরিষদের আবাসিক, গ্রামীণ ব্যাংকের ফান্ড, ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবা কাজে, ঢাকা মেট্রোপলিটান লায়ন্স ক্লাবকে শিক্ষা ও চক্ষু প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, গাজীপুরে কিশোরী মেয়েদের সেবা হোম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাহায্য সহযোগিতা করেন।
দেশের জন্য ড. মোমেনের যে অবদান তা এই স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। ড. মোমেনকে বিশে^র অনেক সংস্থা, অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করে। এমনকি উনার কাজে মুগ্ধ হয়ে লেবাননের কবি নোবেল বিজয়ী খলিল জিবরান একটি সুন্দর কবিতা লিখেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হলে ড: মোমেনের মত একজন মানবদরদী মানুষ খুব প্রয়োজন।
ড: মোমেনের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বি.এ (অনার্স) ও এম.এ, এল.এল.বি, পি,এইচ,ডি (অর্থনীতি) যুক্তরাষ্ট্র, এম,পি,এ, (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়) যুক্তরাষ্ট্র, এম, বি.এ যুক্তরাষ্ট্র্র,
কর্মজীবনের শুরুতেই স্বাধীন পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর একান্ত সচিব হিসাবে বাংলাদেশের ওয়েজ আর্নার স্কীম চালু করেন। এটি বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য অবদান।
অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের একান্ত সচিব থাকা অবস্থায় অনেক ঝক্কি ঝামেলা মোকাবেলা করে চা বাগানগুলো ব্যক্তি মালিকানায় দেয়া। তা না হলে আজ বাংলার এই জমিনে এক ইঞ্চি মাটিও বাগানের থাকতো না। চা গাছগুলি চুলার ছাই হয়ে বাতাসে বেড়াতো।
১৯৮৮-৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্সিয়াল পদপ্রার্থী মাইকেল ডুকাকিসের উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের ‘‘মহাসম্মেলন বাংলাদেশ’’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বোস্টনে ফোবানার তৃতীয় মহাসম্মেলনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রত্যেক গণতান্ত্রিক দল একযোগে এরশাদ সরকার হটাও আন্দোলন করে যখন আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না তখন ড. মোমেন ১৯৮৮সালে ইউ.এস কংগ্রেসে এরশাদ সরকারের ওপর এক শুনানীর আয়োজন করেন। ফলে এরশাদ পতনের শুভসূচনা ঘটে।
ড. মোমেনের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ইউ,এস, কংগ্রেসে বন্যার উপর একটি শুনানি হয়। ফলে বাংলাদেশের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য বরাদ্ধ হয়।
১৮৮৯ সালে ‘‘ম্যাসাচুচেস্ট সিনেট’’ গভর্ণর ড. মোমেনের বাংলার মানুষ ও মানবতার কাজের জন্য ‘‘এ্যাম্বাসেডর অব গুডউইল’’ উপাদি প্রদান করেন।
১৯৯০ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ ঘুর্র্ণিঝড় ও বন্যা হলে আমেরিকার বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে ড. মোমেনের বক্তব্যে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার সাহায্য সংগ্রহ করে দেশে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ‘‘ম্যাসাচুচেস্ট সিনেট’’ বাংলাদেশে অধিক সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং জর্জ বুশ বাংলাদেশে মেরিনদের সাহায্য দাতা হিসেবে পাঠায়।
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হলে ড.মোমেন অনেক শ্রম, অনেক চেষ্টা, অনেক তদবিরের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করান। এছাড়া বিল ক্লিনটন সরকারকে দিয়ে আরও ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করান। শুধু তাই নয় আরও ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফের জন্য তৎকালীন এরশাদ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রে পত্র প্রেরণের জন্য অনুরোধ করেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো ১৯৮২ সালে এই এরশাদ সরকার ড. মোমেনকে জোরপূর্বক অবসর প্রদান করে। এরপরও ড. মোমেন দেশের অসহায় দুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে অনেক মান অপমান সহ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঋণ মওকুফ ব্যবস্থা করে দেন। যা একজন দেশপ্রেমিকের দ্বারাই সম্ভব।
আওয়ামীলীগের বিজয় ও ঐক্য অক্ষুন্ন রাখতে সুধীমহল মনে করেন সিলেট-১ আসনে ড. এ.কে আব্দুল মোমেন এর বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই