নিউজ ফাস্ট

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা মানছে না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর



বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বির্তক উঠেছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ২ এপ্রিল ১২ কর্মকর্তাকে তিনদিনের মধ্যে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ওই ১২ কর্মকর্তা ভুয়া ভ্রমণভাতা গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তখন বিষয়টি তদন্ত হয়।

চার বছর আগের ঘটনা হলেও এতোদিন প্রতিবেদনটি ধামাচাপা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিবেদন নজরে এলে গত ২ এপ্রিল ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তার নির্দেশের ১১ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে একই তারিখে সম্মানী, টিএ/ডিএ উত্তোলন করেছেন, যা তার প্রাপ্য অর্থের চেয়েও অধিক পরিমাণে বেশি। আবার বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরের জন্য একই পরিমাণে টিএ/ডিএ আদায় করেছেন। একইসঙ্গে একই পথে ভ্রমণের প্রত্যেক স্থান থেকে টিএ/ডিএ গ্রহণ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখিত স্থানে না গিয়েও ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে এমন ১২ কর্মকর্তাকে এই প্রক্রিয়ায় ভাতা গ্রহণের দায়ে চিহ্নিত করা হয়। তাদের মধ্যে আছেন- তখনকার উপপরিচালক শেখ মো. রায়হান, ইফতেখার হোসেন ভুইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, সোনিয়া আক্তার, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, মাহফুজা বেগম, শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুননাহার, মো. মজিবুর রহমান, মাহফুজুর রহমান জুয়েল, সহ-শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

এদিকে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে সহকারি বিদ্যালয়ে বদলিতে বাণিজ্য, ডিপিইতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়, বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে সিন্ডিকেট তৈরি, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরেজমিনে ডিইপি পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও নানা অভিযোগে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১২ কর্মকর্তাকে বদলি এবং ২ জনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এছাড়াও ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়েও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসে না পাওয়ায় তাকে শোকজের নির্দেশ দেন।

এদিন মহাপরিচালকের (এডিজি) পিএস তাপস কুমার, রোকসানা হায়দার, পরিকল্পনা শাখার শাহীন মিয়া, অফিস সহকারী সুজন মিয়া ও মাহমুদা আকতার রেখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি নিজ এলাকায় কাজে এসেছি। রোববার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেব। এরপর বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিই’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রতিমন্ত্রীর দুটি নির্দেশনাকেই ক্রটিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



২ এপ্রিলের নির্দেশনার ব্যাপারে তিনি বলেন, যে তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনাটি দেয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে বির্তক রয়েছে।

তিনি আরো জানান, বুধবারের নির্দেশনার ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ওই বৈঠকে মহাপরিচালক না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বৈঠকে উপস্থিত অনেকে প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে গিয়ে এভাবে নির্দেশনার দেয়ার বিষয়টি নেতিবাচক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পরবর্তী করণীয় হিসেবে প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

No comments