এইচডিএমআই: ২.০ এবং ১.৪ এর কার্যকরী তুলনা - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

এইচডিএমআই: ২.০ এবং ১.৪ এর কার্যকরী তুলনা



অডিও-ভিডিও ডেটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ইন্টারফেস হলো হাই-ডেফিনিশন মাল্টিমিডিয়া ইন্টারফেস বা এইচডিএমআই। ২০০২ সালে উদ্ভাবিত তথ্য পারাপারের এই পদ্ধতিটি বর্তমান কম্পিউটিং ও অডিও-ভিজুয়্যাল আদান-প্রদানে বেশ জনপ্রিয় এবং অপরিহার্য মাধ্যম।

সময়ের সাথে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে উন্নত হয়েছে অনন্য এই ডেটা ট্রান্সফার ইন্টারফেসের। সেই সূত্র ধরে ২০১৩ সালে আসে এইচডিএমআই ২.০। পুরনো ১.৪ এর চেয়ে এটি আরও দ্রুততর, কার্যকর ও গতিশীল।

আজকের আর্টিকেলে উভয় ইন্টারফেসের গুণগত তুলনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

সাধারণ তুলনা
এইচডিএমআই ২.০ কে বলা হয় আধুনিক সব হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বান্ধব ইন্টারফেস। ২.০ ডিভাইসে ১.৪ এইচডিএমআই চলে আরও নিখুঁতভাবে।

বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন ও ব্লু-রে প্লেয়ারে ব্যবহৃত এই কানেক্টিভিটি চ্যানেল অডিও-ভিডিও ডেটা পারাপারে অনন্য গতি ও অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

এইচডিএমআই ২.০ মূলত আনা হয়েছে হাই-রেজুলেশন ফোর কে এবং থ্রিডি টিভির জন্য। তবে কেবল রেজুলেশনই মূলকথা নয়। আসল মুন্সিয়ানা এর ব্যান্ডউইথ সক্ষমতায়। এইচডিএমআই ২.০ সেকেন্ডপ্রতি ১৮ গিগাবাইট ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে যেখানে এইচডিএমআই ১.৪ এর সক্ষমতা ছিল সর্বোচ্চ ১০.২ গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ড।

ফোর কে ভিডিও’র ক্ষেত্রে
ফোর কে ভিডিও’র ধারণা আসে এইচডিএমআই ১.৪ এর হাত ধরে। কিন্তু এই রেজুলেশনের পূর্ণতা পেয়েছে এইচডিএমআই ২.০ তে। এইচডিএমআই ১.৪ তে সেকেন্ড প্রতি ২৪ ফ্রেম রেটের গতি বেড়ে এইচডিএমআই ২.০ তে হয়েছে সেকেন্ড প্রতি ৫০ ও ৬০ ফ্রেম।

ফিল্ম দেখার জন্য সাধারণত ২৪ থেকে ৩০ ফ্রেম রেটই যথেষ্ঠ, সেখানে ৫০ ও ৬০ ফ্রেম রেটের কন্টেন্ট আরও বেশি উপভোগ্য ছবি প্রদান করে। হাই-এন্ড গেমিংয়ে মূলত ৬০ ফ্রেম রেট ব্যবহৃত হয়।

১০ এবং ১২ বিট কালারে ব্যান্ডউইথ প্রাপ্যতা
এইচডিএমআই ২.০ আল্ট্রা-এইচডি বা ফোরকে ভিডিও’র ফ্রেম রেটের মত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ১০ এবং ১২ বিটের ডেপ্থের কালার ব্যান্ডউইথ ট্রান্সফার। এইচডিএমআই ১.৪ এ এই ব্যান্ডউইথ সীমিত ছিল ৮ বিটে।

৮, ১০ এবং ১২ বিটের কালারের পার্থক্য হচ্ছে এর মধ্যে রঙের সংখ্যার উপস্থিতির। ৮বিটে যেখানে ১৬.৭ মিলিয়ন সংখ্যক কালার প্যালেট থাকার সম্ভাব্যতা থাকে, সেখানে ১২ বিটে সম্ভাব্য কালার প্যালেট সংখ্যা ৬৮.৭ বিলিয়ন।

সুতরাং পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে এইচডিএমআই ২.০ এ ফোর কে মানের ভিডিওতে কালার ডেপ্থ ও এর ব্রাইটনেস কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

 ডুয়াল ভিডিও স্ট্রিম
এইচডিএমআই ২.০ এর আরও একটি অভূতপূর্ব ফিচার হচ্ছে একই স্ক্রিনে একসাথে দুইটি ভিডিও স্ট্রিমিং। বলা হচ্ছে, ব্যান্ডউইথ ইস্যুর এই উন্নয়ন আক্ষরিক অর্থেই এইচডিএমআই ২.০কে এগিয়ে রাখে।

সেকেন্ড প্রতি ১৮ গিগাবাইট ফ্রেম রেটের জন্য অডিওসহ ১০৮০ পিক্সেল স্ট্রিমিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্থের পাইপ রয়েছে।

এছাড়া থ্রিডি টিভি’র ‘ডুয়াল ভিউ’ একই টিভিতে দুজন মানুষকে সম্পুর্ণ ভিন্ন দুটি অনুষ্ঠান দেখার অভিজ্ঞতা দিতে সহায়তা করে এইচডিএমআই ২.০ ইন্টারফেস।

হাইপার অডিও চ্যানেল
টেলিভিশনের এভি-অডিও’র ৮ চ্যানেল প্রায়ই উপেক্ষা করতে গ্রাহকরা। এইচডিএমআই ২.০ ইন্টারফেসের ৩২ চ্যানেল গ্রাহকের সেই অভ্যাস পাল্টে দিয়েছে।

ফলে ঘরে বসেই বিশ্বসেরা অডিও সিস্টেম ডলবি অ্যাটোমসে সিনেমা উপভোগ করা যায় অনায়াসেই। ডলবি অ্যাটোমস পজিশনাল অডিও, থ্রিডি ইফেক্টসহ চমৎকার সব অভিজ্ঞতা দেয় এইচডিএমআই ২.০ সিস্টেমে।

সমস্ত গ্যাজেটের নিয়ন্ত্রণ
এইচডিএমআই ২.০ এর যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে কম আলোচনা হয়, সেটি হচ্ছে কনজিউমার ইলেক্টনিক্স কন্ট্রোল বা সিইসি ২.০। অনন্য এই ফিচারের মাধ্যমে একটি এইচডিএমআই অন্য আরেক এইচডিএমআই সিস্টেমে রিমোট কন্ট্রোলারের মত ব্যবহার করা যায়।

কারিগরি দিক থেকে একটি এইচডিএমআই ২.০ সিস্টেমের রিমোট ১৫টি ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

সাধারণত হাই-এন্ড স্মার্টফোনগুলোর এমন ফিচার থাকলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফোনের আইআর ট্রান্সমিটারের চেয়ে এইচডিএমআইয়েরে ইউনিভার্সাল রিমোট আরও বেশি সুলভ ও কার্যকর। যদিও বেশিরভাগ মানুষ এ সম্পর্কে জানে না।

সূত্র: ট্রাস্টেড রিভিউ।

কোন মন্তব্য নেই