আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে দেশের খেলোয়ারদের
একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটদের প্রধান লক্ষ্য থাকে কোন বাহিনী কিংবা সংস্থায় একটা চাকরি। তবে ব্যতিক্রম অ্যাথলেটদের সংখ্যাও কম নয়। এমন অনেকেই আছেন যাদের কাছে খেলাধুলাই একমাত্র ধ্যানজ্ঞান।
ক্রীড়া দম্পতি নিসা - আল আমিনের কথাই ধরা যাক। সর্বশেষ সাউথ এশিয়ান গেমসে পদক জয়ী এই দুই অ্যাথলেট, সময় কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তায়। করোনার কারণে অন্ধকার ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ তাদের কাছে।
দুইজন দুই অঙ্গনের মানুষ। একজন ভারত্তোলক আরেকজন বক্সার। তবে ভালোবাসা তাদের নিয়ে এসেছে এক ছাঁদের নীচে। জোহুরা আল-আমিন জুটির যুগলবন্দী দীর্ঘদিনের। এই ক্রীড়া দম্পতি দেশের জন্য বোয়ে এনেছেন অনেক সন্মান।
গেল এসএ গেমসে ভারোত্তোলন ইভেন্টে জোহুরা নিসার জিতেছেন রৌপ্য। স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও একই আসরে বক্সার আল আমিনকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে হয়েছে ব্রোঞ্জ নিয়ে।
করোনার দুর্যোগে ঘরবন্দী অবস্থায় নিজেদের ফিট রাখতেই এখন আপ্রাণ চেষ্টা তাদের। ক্রীড়ার দু:সময়ে একজন হচ্ছেন আরেকজনের অনুপ্রেরণা। স্বপ্ন বুনছেন সুন্দর আগামীর।
এ প্রসঙ্গে জোহুরা-আমিন জুটি বলেন, করোনার কারণে সবকিছুই বন্ধ। বাংলাদেশ গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সেটাও বন্ধ। তাই মানসিকভাবে একটু কষ্ট পেয়েছি। সামনে অনেক বড় বড় খেলাও ছিলও।
তবে সেখানেও আছে আফসোস, আছে মন খারাপের গল্প৷ ক্রীড়াঙ্গনের প্রায় অধিকাংশ অ্যাথলেটই কোন না কোন বাহিনী কিংবা সংস্থার সদস্য। তবে ব্যতিক্রম এই দম্পতি। খেলাধুলাই তাদের উপার্জনের একমত উৎস৷ তাইতো করোনার প্রভাবে তাদের ছন্দময় সংসারে উঁকি দিচ্ছে অনিশ্চয়তা। এভাবে খেলা বন্ধ থাকলে কি হবে ভবিষ্যৎ, কিভাবে জ্বলবে চুলো, জানেন না তারা।
তারা বলেন, যে সকল খেলোয়াড়ের খেলা ছাড়া আর কোনও আয়ের পথ নেই তাদের জন্য সরকারের একটু ভাবা উচিত।
নিসা আলামিনের মতো ক্রীড়াঙ্গনের এমন বহু পরিবার রয়েছে যাদের জীবন সংগ্রামের সাথে জড়িয়ে আছে শুধু খেলাধুলা। সংশ্লিষ্টরা কি ভাবছে তাদের কথা?

কোন মন্তব্য নেই