নিউজ ফাস্ট

আমলকির কেজি ১০০০ টাকা, মাল্টা কালিজিরার দামও আকাশচুম্বী












প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকে প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকেছে। এতে বাজারে মধু, কালিজিরা, মাল্টা, কমলা, আদা, রসুনের মতো পণ্যগুলোর চাহিদা বেড়েছে অনেক।

কিন্তু বাড়তি চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। আদা-রসুনের দাম এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও দাম নামেনি কালিজিরা, মাল্টা ও মধুর। নতুন করে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে আমলকীর দাম।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, মাল্টা-কমলার বাজার আগামী এক সপ্তাহ এমন অবস্থায়ই থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে কমে আসবে। কালিজিরার দামও কমতে শুরু করেছে। করোনার কারণে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। সেটাই এখনো রয়েছে। আর আমলকীর মৌসুম না হওয়ায় বাজারে এই ফল নেই বললেই চলে। মূলত বারোমাসি কিছু গাছ রয়েছে আমলকীর। এ জন্য কিছু ফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত চাহিদায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি বাজার, মানিকনগর, মালিবাগ, বাড্ডা ও বসুন্ধরা গেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। বাদামতলীর পাইকারি বাজারে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কমলা। বিক্রেতারা বলেন, স্বাভাবিক সময়ে মাল্টা সাধারণত ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। কিন্তু এবার আড়তে মাল একেবারেই কম।

কিন্তু বিপরীতে বিক্রি বেড়েছে তিন গুণ। মানিকনগর বাজারের আলম ফলঘরের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ সময়টায় সাধারণত আম-কাঁঠালের চাহিদা থাকায় বিদেশি ফলের বেচা-বিক্রি খুবই কম থাকে। গত বছর এমন সময় দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি মাল্টা বিক্রি করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এবার চারটা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেও ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মাল্টা বিক্রি করতে পারি।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুট ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে মাল্টা-কমলা আসে সাধারণত মিসর, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। এত দিন মিসরের মাল্টা আমদানি করেছি। এখন মিসরে মৌসুম শেষ হওয়ায় আনতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। আমাদের প্রচুর মাল এখন সমুদ্রপথে রয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেগুলো দেশে এসে পৌঁছবে। তখন দাম কমে আসবে। আমদানি বাজার পরিবর্তনের এই সময়টায়ই একটু সমস্যা হয়েছে। তার ওপর করোনার কারণে চাহিদা বেড়েছে।’






গত এপ্রিলেও বাজারে মাল্টার দাম ছিল ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। ওই সময় হঠাৎ দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বাড়ানোর দায়ে বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে ফলের বৃহত্তম পাইকারি বাজার ফলমণ্ডিতে অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেটের দায়ে দুটি আড়তকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। করোনা আসার পর থেকে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে কালিজিরার।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে কালিজিরা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। ফেব্রুয়ারিতেও এই দামেই বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে দাম বাড়াতে থাকে পাইকাররা। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এখন অনেকটাই কমে এসেছে। খুচরা বাজারে এখন কালিজিরা বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। অনেক দোকানি ১০০ গ্রাম কালিজিরা নিলে ৩০ টাকাও রাখছেন। শ্যামবাজারে কালিজিরা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি।

জানতে চাইলে মুগদা বাজারের মনি মসলাবিতানের মালিক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে মালের অভাব নেই। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছিল। মাঝখানে ৪০০ টাকাও বিক্রি করেছি। এখন কমে আসছে। আরো কমবে। কালিজিরা সাধারণত ১৪০ টাকা কেজির মধ্যেই থাকে। বাজারে আমাদের দেশে উৎপাদিত কালিজিরাই বেশি চলে। এটিই ভালো। এ ছাড়া ভারতীয় পাণ্য রয়েছে, সেগুলো মানে ভালো নয়, তাই দাম কম।’ কালিজিরা ছাড়াও করোনায় চাহিদা বেড়েছে মধুর। মধু বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি।

সাধারণত এই সময়টায় আমলকীর তেমন চাহিদা না থাকলেও করোনায় ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণে বেড়েছে এর চাহিদা। কিন্তু মৌসুম না হওয়ায় বাজারে আমলকীর সরবরাহ খুবই কম। এই সুযোগটা নিয়েছেন উৎপাদক, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাঁরা দাম রাখছেন নিজেদের ইচ্ছামাফিক। গতকাল বসুন্ধরা গেট এলাকার কাঁচাবাজারে গিয়ে ১০টি দোকান ঘুরে একটি দোকানে হাজার টাকা কেজির আমলকী পাওয়া যায়। তবে বাজারের ভাই ভাই ফল দোকানের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার কাছে ছিল, শেষ হয়ে গেছে। আমি ৮০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। কোথাও কোথাও আমলকির কেজি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সম্প্রতি আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল -এ একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এআরডিএস-এ আক্রান্ত ১৬৭ জন রোগীর ওপর করা এক গবেষণার বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেই প্রবন্ধে। ওই গবেষণায় রেগীদের দিনপ্রতি ১৫ গ্রাম ইন্ট্রাভেনাস (আইভ) ভিটামিন সি দেয়া হয়েছে পর পর চারদিন। ফলে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

No comments