বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পেল শান্তিতে নোবেল
নোবেল জয়ের খবরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি টুইট করে বলেছে, 'বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ১০
কোটির বেশি শিশু, নারী আর পুরুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে জীবন উৎসর্গ করেছেন ডবিস্নউএফপির কর্মীরা। এই পুরস্কারে তাদের কাজ স্বীকৃতি পেল।' আর সংস্থাটির প্রধান ডেভিড বিয়াসলে বলেন, 'জীবনে এই প্রথম বোধ হয় আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।'
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২১১ জন ব্যক্তি এবং ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম জমা পড়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও) এবং পরিবেশ আন্দোলনে নজর কাড়া সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের নামও সেই তালিকায় ছিল।
নোবেল কমিটি বলেছে, চলতি বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ডবিস্নউএফপি খাদ্য সুরক্ষাকে শান্তির উপকরণ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয় সহযোগিতায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহারকে মোকাবিলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে একত্রিত করার জন্য জোরালো অবদান রেখেছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যন বেরিট রেইস অ্যান্ডারসন শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজন আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।'
সংগঠন ও সংস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে রেডক্রসকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়। এছাড়া ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘের আরেক সংস্থা 'ইউএনএইচসিআর'।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা-সংক্রান্ত সংস্থা। এটি ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নিজস্ব তথ্যমতে, সংস্থাটি প্রতিবছর ৮৮টি দেশে ৯৭ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর রোমে অবস্থিত। সারা বিশ্বে এর ৮০টির বেশি শাখা আছে।
চলতি বছর নোবেল পুরস্কারের সম্মানী বাড়িয়ে এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার করা হয়েছে। যা প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি। এমনিতেই প্রতি বছর স্টকহোমে অনুষ্ঠান করে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। সেখানে তারা বক্তৃতাও করেন। তবে এবার করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে রাজকীয় সেই আয়োজন থাকছে না। তার বদলে নোবেল জয়ীরা নিজের দেশে বসে ওয়েবিনারে অংশ নেবেন নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণীতে তাদের স্টকহোমে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
২০১৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ইথিওপিয়ার সংস্কারপন্থি প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। মূলত দুই দশক ধরে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসান ও দেশটির মধ্যে জাতিগত সংঘাত নিরসনের ইথিওপিয়ার আমূল সংস্করের কারিগর হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন কবি লুইস গস্নুক। এর আগের দিন বুধবার জিন সম্পাদনায় নতুন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য রসায়নে নোবেল পেয়েছেন ফ্রান্সের ইমানুয়েল কারপেন্টার ও যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ ডাউডনা।
এছাড়া মহাবিশ্বের অন্যতম বিস্ময় কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে নতুন আবিষ্কারের গবেষণায় পদার্থে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানী রজার পেনরোস, মার্কিন জ্যোতির্বিদ রেইনহার্ড গেঞ্জেল ও জার্মান পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজতিন।
সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা অনুসারে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রতিবছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে।

কোন মন্তব্য নেই