নিউজ ফাস্ট

নাকের রক্ত মুছতে মুছতে সংবাদ সম্মেলন শেষ করলেন বার্সা কোচ

 


লা লিগায় মহাগুরুত্বপূর্ণ এক সপ্তাহ এবার। লিগের শীর্ষ ছয় দল এই সপ্তাহে মুখোমুখি হচ্ছে। শীর্ষে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ খেলবে ছয়ে থাকা ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ খেলবে পাঁচে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে। তবে মূল খেলাটা সপ্তাহের শুরুতেই। কাল সেভিয়ার মাঠে খেলতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। লিগে তিনে আছে বার্সেলোনা। ওদিকে চারে থাকলেও দুই পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা সেভিয়ার হাতে বাড়তি এক ম্যাচ আছে।


এমন অবস্থায় কালকের ম্যাচটি মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বার্সার জন্য। এ মৌসুমে এর আগেই সেভিয়ার সঙ্গে দুবার দেখা হয়েছে তাদের। বার্সেলোনার মাঠে লিগ ম্যাচে ড্র করে এসেছে সেভিয়া। আর কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সেভিয়ার মাঠে ২-০ গোলে হেরে গেছে বার্সা। সপ্তাহের শুরুতে কাল সেভিয়ার মাঠে খেলে বুধবার ঘরের মাঠে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই কোপা দেল রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ খেলবে বার্সা।


আজ ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাই বেশ কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমানকে। যদিও ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনটা কোমানের শেষ হয়েছে নাক চেপে ধরে। সংবাদ সম্মেলন চলার সময়ে নাক থেকে রক্ত পড়া শুরু হয় কোমানের।


সংবাদ সম্মেলন শুরুই হয়েছে এক সপ্তাহে সেভিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ প্রসঙ্গে। দুই ম্যাচের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোমান বলেছেন, দুটি ভিন্ন প্রতিযোগিতার খেলা, তাই দুটিকে আলাদাভাবেই দেখছেন, ‘দুটি ভিন্ন খেলা। কাল লিগের খেলা, বুধবার কাপের খেলা। আমাদের দুটি জেতার চেষ্টা করতে হবে। আমরা কাপের খেলার প্রথম লেগের ফলাফল জানি। লিগে বরং আমাদের বর্তমান জয়ের ধারা চালিয়ে যাওয়ারই ইচ্ছা। আমাদের পয়েন্ট জোগাড় করতে হবে এবং শীর্ষে থাকা দলগুলো ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’


গত মৌসুমে কোনো শিরোপা পায়নি বার্সেলোনা। এ মৌসুমেও এখন পর্যন্ত যে দশা, তাতে শিরোপা ছাড়াই থাকতে হবে তাদের। আর কালকের ম্যাচেই হয়তো লিগ–ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চাপে আছেন কি না, এমন প্রশ্নে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি কোমান, ‘আমার মনে হয় না। মনে হচ্ছে, যেন শুধু আমরাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছি। প্রতি সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলি। এ সপ্তাহে সব শীর্ষ দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। শুধু আমরা নই, সবাই চাপের মধ্যে থাকবে।’


দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ছাঁটাইয়ের হুমকি পেয়েছিলেন কোমান। ক্লাবের সভাপতি পদপ্রার্থী ভিক্তর ফন্ত বলেছিলেন, যত ভালোই করুন না কেন কোমান, বিজয়ী হলে জাভিকেই কোচ বানাবেন তিনি। এ মৌসুমে বার্সেলোনা শিরোপাহীন থাকলে শুধু ফন্ত নয়, অন্য যে–ই সভাপতি হন না কেন, একই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোমান আপাতত সে চিন্তা ভুলে কালকের ম্যাচ নিয়েই চিন্তা করছেন, ‘আমি জানি, বার্সেলোনা কোচ হওয়া মানেই সব সময় চাপে থাকা। ম্যাচ না জিতলে কোচের দায় থাকবেই। আমি জানি না, কিছুই না জিতলে কী হবে, কিন্তু সেসব ভাবা ও বিশ্লেষণের সময় আছে। আমি সব সময় আগামীকালের জেতা নিয়ে ভাবি, হার নিয়ে নয়।’


এমন আশাবাদের মিনিট দুই পর লিগে এলচের বিপক্ষে দলের দুই অর্ধের পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঘটে সেই ঘটনা। হঠাৎ কোমানের নাক দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে। টিস্যু দিয়ে নাক মুছতে মুছতে দলের দুই অর্ধে দুই রকম পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোমান। প্রশ্ন তবু শেষ হয় না, রক্ত পড়াও নয়। আগামীকালের ম্যাচের আগে সেভিয়া বাড়তি বিশ্রাম পাচ্ছে, এটা খেলায় প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে না করতেই আবার নাক থেকে রক্ত পড়া শুরু করে কোমানের। অস্ফুটে একটা গালি দিয়ে আরও কিছু টিস্যু নিয়ে নাক মুছতে মুছতে তাই আগেভাগেই সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন কোমান।


পরে জানা গেছে হৃদরোগের রোগী কোমান নিয়মিত রক্ত তরলীকরণের কিছু ওষুধ সেবন করেন। সে কারণেই ওভাবে আচমকা রক্ত বেরিয়ে পড়েছিল তাঁর।

No comments