দু-একটি কোম্পানির জন্য গোটা ই-কমার্স খাতের যেন ক্ষতি না হয়: শমী কায়সার
দু-একটি কোম্পানির জন্য যেন গোটা ই-কমার্স সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেলে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে শমী কায়সার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ই-কমার্সে গ্রাহকদের ঝুঁকি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত বিষয়টি হলো আমরা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন কোনো আইন প্রয়োগ করতে পারি না। আমরা অ্যাসোসিয়েশন পলিসি নিশ্চিত করতে চাই। কম্পেটেটিভ মার্কেট যাতে থাকে। সেই জায়গা থেকে অনেক অভিযোগ হয়েছে, আমরাও সেটা মানি। ই-কমার্স বুমিং সেক্টর। এখানে ফিউচার আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা এখানে যাতে সমস্যা না হয় সেটি নিশ্চিত করতে ডাব্লিউটিও সেলের ডিজি বলেছেন আমরা ইমেডিয়েটলি একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) করছি। সেখানে ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
‘একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা যাতে একটা লেভেল প্লেয়িংয়ে থাকে। সুতরাং এসওপি হয়ে গেলে অনেক কনফিউশন দূর হবে।’
শমী কায়সার আরও বলেন, ‘যেহেতু এটি নতুন সেক্টর এখানে অনেক বোঝার ব্যাপারও আছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকও ছিল। ভোক্তারা যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সেই জায়গাটিতে গুরুত্ব দিয়ে আমরা মিটিং করছি। সেজন্য আমরা কিছু পলিসি করছি, যা বাংলাদেশ রিভিউ করব।’
তিনি বলেন, ‘এসক্রো সার্ভিসের বড় জায়গাটি হলো ক্রেতা ও উদ্যোক্তা দুজনই নিরাপদ থাকবে। এই সেক্টরে ৯৭ শতাংশ স্মল ও মিডিয়াম উদ্যোক্তা। তারা অনেকেই প্রোপারলি ব্যবসা করছে। আমরা চাই সবাই ব্যবসা করুক। দু-একটি কোম্পানির জন্য যেন গোটা ই-কমার্স সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছি এই জায়গাগুলো তারা মনিটর করে দেখবে। যেই জায়গায় সমস্যা আছে সরকারের নীতি অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের দেশে ডিজিটাল কমার্স আইন নেই, আমরা খুব শিগগিরই এসওপি প্রণয়নের পর ডিজিটাল কমার্স আইন করার অনুরোধ করেছি।’
ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘আমরা ই-ক্যাব থেকে দুটি দাবি জানিয়েছি। একটা হলো গত ১ বছর আগে একটা এসওপি পরিচালনা নীতিমালা, ই-কমার্স কোম্পানিগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে এটা নিয়ে নীতিমালা কিভাবে প্রণয়ন করা হবে সেটার ড্রাফট তৈরি করে দিয়েছি। যতদ্রুত সম্ভব করলে সবাই উপকৃত হবে। শুধু একটা দুইটা কোম্পানি নয়, পুরো ই-কমার্স সেক্টরের জন্য এটি জরুরি। আরেকটি হলো বাংলাদেশে কোন এসক্রো সার্ভিস চালু হয়নি। বাইরের দেশগুলোতে দেখা যায় অ্যামাজন, পে-পাল বা বিভিন্ন জায়গায় পেমেন্ট করলে কোন একটা কোম্পানি থাকে যারা নিরাপত্তা দেয়। আমাদের দেশে কোনো ব্যাংক বা কেউ এই নিরাপত্তা দিচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ট্রানজেকশন করছে তাদের কোনো সেফটি নেই। সেজন্য দাবি জানিয়েছি এসক্রো সার্ভিস চালুর জন্য। এই দুটি সমস্যার সমাধান করা গেলে লাখ লাখ উদ্যোক্তা নিরাপত্তা পাবেন। আমরা চাই প্রত্যেকেই একটা লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ডে থাকুক এবং ব্যবসা করুক। কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমি বলব জেনে-বুঝে ব্যবসা করুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আমাদের কাছে যুগপোযোগী মনে হয়েছে। এতে পেমেন্টের নিরাপত্তা থাকবে।’
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগ, রাজস্ব বোর্ড, বিটিআরসি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধি ও ইক্যাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই