নিউজ ফাস্ট

চিপ কারখানা স্থাপনে টিএসএমসিকে আকৃষ্টে সফল জাপান


তাইওয়ানের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি জাপানে নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হলো, যা বিদ্যমান চিপ সংকটের মধ্যে আশার কথা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।


জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোতো এলাকায় ৭০০ কোটি ডলার খরচ করে এ কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে সনি গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে বড় অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হলো।


আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির এ কারখানাটি পরিচালনায় একটি সমবায় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেটির জন্য সিনথেটিক ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হবে। টিএসএমসি এর প্রোটোটাইপ পরিষেবা সরবরাহ করবে। অন্যদিকে চিপের নকশার জন্য কলেজ অব টোকিও তাদের করপোরেট প্লাটফর্ম ব্যবহার করবে। উভয়পক্ষই বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রে তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় করবে। কলেজ অব টোকিওর প্রেসিডেন্ট মাকোতো গনোকামি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে টিএসএমসি জানিয়েছিল, টোকিও শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর সুকুবায় একটি বিশ্লেষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যেখানে থ্রিডি চিপ ইন্টিগ্রেশন-সংক্রান্ত জ্ঞান বিকাশে কাজ করা হবে। এজন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও করা হয়েছে।


থিডি ইন্টিগ্রেশনের এ জ্ঞান চিপগুলোকে ক্ষুদ্রায়নের সীমা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে। এটি আসলে সেমিকন্ডাক্টর বাণিজ্যে জাপানের আধিপত্য ফিরে পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। টিএসএমসির সঙ্গে সম্পর্কের ওপর জাপান বেশ নির্ভর করছে কারণ এখন বিশ্বের মূল চিপ উৎপাদন শিল্পটি তাইওয়ানকেন্দ্রিক। চিপের উৎপাদন ও বিকাশেও দেশটির অবদান অনস্বীকার্য।


বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাবিদরা বলছিলেন যে চিপ উৎপাদনে জাপানের কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। যার ফলে অতি গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির জন্য তাকে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সে জায়গা থেকে উত্তরণেই নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা তৈরি হচ্ছে দেশটিতে।


কুমামোতোর কারখানায় ২০ ন্যানোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হবে। এখানে ৩ ন্যানোমিটারের সর্বাধুনিক চিপ নির্মাণের কাজ চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এ কারখানার সবচেয়ে গুরুত্বের দিক হচ্ছে জাপানের গাড়ি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অটো চিপের চাহিদা পূরণ।


এক সময় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে জাপান শীর্ষ পর্যায়ে থাকলেও তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে গেছে। টিএসএমসির সঙ্গে যৌথভাবে চিপ কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে হারানো স্থান পুনরুদ্ধারের প্রয়াস লক্ষণীয়।


নতুন কারখানা নিয়ে অবশ্য কিছু হতাশার কথা বলতেও শোনা যাচ্ছে কাউকে কাউকে। অনেকে প্রশ্ন রাখছেন, জাপানি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো কি বিশ্বস্ত ক্রেতা? আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে কারখানার কার্যক্রম পরিচালনায় কীভাবে সহায়তা করবে সরকার। কারখানা পরিচালনা এবং অপারেশন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা পায় চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতারা। চলমান তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ রকম সরকারি সহায়তা কিংবা প্রণোদনা না পেলে বাজারে শক্তিশালী অবস্থান করা কঠিন ঠেকবে জোটটির।


কোন মন্তব্য নেই