জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে রায় ব্রিটিশ আদালতের - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে রায় ব্রিটিশ আদালতের

 

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে মার্কিন সরকারের আপিলের পক্ষে রায় দিয়েছে ব্রিটিশ হাইকোর্ট।


শুক্রবার নিম্ন আদালতের আদেশকে বাতিল করে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর পক্ষে এই রায় দেয়া হয়। এর ফলে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে ব্রিটেনের প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমে এসেছে।


ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলই বর্তমানে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।


তবে অ্যাসাঞ্জের পক্ষে লড়া আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


অ্যাসাঞ্জের বান্ধবী স্টিলা মরিস তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই রায় ন্যায়বিচারের 'মারাত্মক গর্ভপাত'।


তিনি বলেন, আইনজীবীরা 'যত শিগগির সম্ভব' এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।


চলতি বছরের শুরুতে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে মার্কিন সরকারের আবেদন খারিজ করে দেয় ব্রিটেনের এক নিম্ন আদালত। মার্কিন সরকার পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে।


যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ১৭টি গুপ্তচরবৃত্তি ও একটি কম্পিউটার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা চালু রয়েছে। এই মামলাগুলোতে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্র উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে দেশে ফেরাতে চায়।


২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন দেশের সরকারের গোপন থাকা তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টা নেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে উইকিলিকস ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিভিন্ন বিপুল গোপন তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে তা প্রকাশ করেন। ওই সময় ইরাকে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকসহ ডজনখানেক নিরস্ত্র সাধারণ ইরাকিকে গুলি করে হত্যার ৩৯ মিনিটের এক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে উইকিলিকস বিপুল পরিচিতি পায়।


২০১০ সালে সুইডেনের দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে অ্যাসাঞ্জ প্রথম আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। ওই সময়ে সুইডেন ধর্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অ্যাসাঞ্জকে পাঠানোর জন্য ব্রিটেনের কাছে আবেদন করে।


২০১২ সালে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুইডেনে যাওয়া এড়াতে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনস্থ ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় বন্দী অবস্থায় তিনি ওই দূতাবাসে কাটান।


২০১৯ সালে ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নিলে ব্রিটেনে দেশটির দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ।


সূত্র : আলজাজিরা

কোন মন্তব্য নেই