ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের প্রসপেক্টাসে গোজাঁমিলের আরও কিছু তথ্য
শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে যাওয়া ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ প্রসপেক্টাসে একই বিষয়ে পৃষ্টাভেদে কিছু ভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে। যা বাস্তবে সম্ভব না হলেও এরমধ্য দিয়েই কোম্পাটি টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ লভ্যাংশ, রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ ও শেয়ার বরাদ্দকৃত তারিখ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটিতে শ্রম আইনের ব্যত্যয় হয়েছে।
প্রসপেক্টাসের ২৮৭ পৃষ্টা অনুযায়ি, ২০১৯ সালে ১ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ৪১০ টাকার নগদ ও একই পরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২৪৭ পৃষ্টায় শেয়ারহোল্ডারস ইক্যুইটি হিসাবে বোনাস শেয়ার অপরিবর্তিত থাকলেও নগদ লভ্যাংশ কমিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৯০১ টাকা দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০৯ টাকা কম দেখানো হয়েছে। তবে ৩৩১ পৃষ্টায় শেয়ারহোল্ডারস ইক্যুইটি হিসাবে আবার ১ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ৪১০ টাকাই দেখিয়েছে।
প্রসপেক্টাসের ২৪৭ পৃষ্টায় শেয়ারহোল্ডারস ইক্যুইটি হিসাবে ২০১৯ সালের শুরুতে রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮২১ টাকা এবং ওই বছরে ৪৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮২ টাকা রিটেইন আর্নিংসে স্থানান্তরের পরে ৩১ ডিসেম্বর দাড়ায় ৪ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮ টাকায়। তবে ২৫৭ পৃষ্টায় একই বিষয়ে নোট ৪.০২ এ বছরের শুরুতেই রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ ৪ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮ টাকা এবং ওই বছরে রিটেইন আর্নিংসে স্থানান্তর ০০ দেখানো হয়েছে।
প্রসপেক্টাসের ৫৯ পৃষ্টা অনুযায়ি, ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট ও ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর বোনাস শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে গিয়ে ৬৫ পৃষ্টায় ১৮ সালেরটি ১ মাস পিছিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং ৬৬ পৃষ্টায় ১৯ সালেরটি ২ মাস এগিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ি, ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) গঠন করা এবং তা কর্মীদের মধ্যে বিতরন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ ফান্ড গঠন করলেও তা বিতরন না করে কর্মীদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সাল থেকে ডব্লিউপিপিএফ গঠন করে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটিতে এই ফান্ডের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তারা ফান্ড বিতরন না করার পাশাপাশি ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফান্ডের উপর কোন সুদ বা সুবিধাও হিসাব করেনি।
এ বিষয়ে জানতে ইস্যু ম্যানেজার সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে বসে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রথম দফায় ৮ ডিসেম্বর সময়ও নির্ধারন করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনার প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৬ তারিখের আগে বসবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া না দিলে এর পরবর্তীতে ফোন দিলে তিনি জানান, আসলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এখন বসতে চাচ্ছেন না, তাই আমি চাইলেও কোন মন্তব্য করতে পারছি না।
কোন মন্তব্য নেই