নেগ্বেবে ইসরাইলের সঙ্গে চার আরব মন্ত্রীর বৈঠক ফিলিস্তিনি আদর্শের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা: ইরান - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

নেগ্বেবে ইসরাইলের সঙ্গে চার আরব মন্ত্রীর বৈঠক ফিলিস্তিনি আদর্শের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা: ইরান


ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদেহ অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চারটি আরব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই বৈঠককে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের আদর্শের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন। 


তিনি (গতকাল সোমবার) বলেছেন, মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার ও সন্ত্রাসী ইহুদিবাদীদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির পিঠে ছুরিকাঘাতের শামিল এবং তা হবে অধিকৃত ফিলিস্তিনে শিশু হত্যাকারী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও সেখানে দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রতি পুরস্কারস্বরূপ।  


গত পরশু (রোববার) মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরোক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অধিকৃত নেগ্বেব অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। 



ওই চার মন্ত্রীর বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গ, ইউক্রেন সংকট এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।


আরব বিশ্ব ফিলিস্তিনি জাতির অধিকারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে দাবি করা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে  বর্ণবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কথিত আব্রাহাম সমঝোতার আওতায় ওই চারটি আরব সরকার দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। 


গত পরশুর ওই বৈঠককে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরার ও ইসরাইলের অস্তিত্বকে স্বাভাবিক অস্তিত্ব হিসেবে সবাই মেনে নিচ্ছে বলে প্রচারের চেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তব অবস্থা কিন্তু এর বিপরীত।  পশ্চিমা দেশগুলোসহ কয়েকটি অমুসলিম পরাশক্তি ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে আসলেও আরব ও মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের কাছেই ইসরাইল বৈধতার সংকটে রয়েছে এবং ইসরাইল একঘরে হয়ে রয়েছে। 


সম্প্রতি আফ্রিকান ইউনিয়নে ইসরাইলের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভের আবেদন নাকচ হয়ে গেছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে জনগণের প্রতিবাদও ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়াও ফিলিস্তিনি যুবকরাও ইসরাইলি দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্রমেই জোরদার করছে। ইসরাইলের সঙ্গে চার আরব মন্ত্রীর বৈঠকের সময়ই দুই সংগ্রামী ফিলিস্তিনির হামলায় কয়েকজন ইসরাইলি পুলিশ হতাহত হয়েছে।


আমিরাত ও বাহরাইনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন অর্থনৈতিক উন্নতির জন্যই তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছেন। কিন্তু এ ধরনের দাবি বা প্রচারণাও অবাস্তব। এর প্রমাণ হল ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে মিশর ও জর্দান অনেক বেশি অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এবং ইসরাইলি ও মার্কিন  চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে।  


আসলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে ইসরাইল আরব ও মুসলিম বিশ্বে তার পণ্যের বাজারও ছড়িয়ে দিতে চায়। নেগ্বেবের অশুভ ওই বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় ওয়াশিংটন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকারী আরব সেবাদাস সরকারগুলোকে সহায়তা ও সমর্থন দেয়া অব্যাহত  রাখার আশ্বাস তুলে ধরছে এবং এমনকি ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার পুনরুজ্জীবন ঘটলেও সেবাদাসদের প্রতি সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে অভয় দিতে চায় ওয়াশিংটন। 

কোন মন্তব্য নেই