উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের পছন্দের দেশ কানাডা
কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডিগ্রি বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এবং থাকার খরচ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের তুলনায় কম। উচ্চশিক্ষার জন্য তরুণদের অন্যতম পছন্দের দেশ কানাডা।
সম্প্রতি কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিসিআইটি) থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট মূল্যায়নের সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডেনশিয়াল ইভালুয়েশন সার্ভিস (আইসিইএস) এর ওয়েব সাইটে বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দিয়ে বলা হয় এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটধারীরা কানাডার জন্য মূল্যায়নের যোগ্যতা হারিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনটি তথ্যবহুল ছিল না এ কারণে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন।
আইসিইএস সকল দেশ এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ মূল্যায়ন করতে পারে না। যেমন-তারা বাংলাদেশের উল্লেখিত ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ মূল্যায়ন করতে পারে না। এবং এই ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাও সাম্প্রতিক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে।
বাংলাদেশের উক্ত ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যদি কানাডায় পড়তে যেতে চান, তাহলে বিসিআইটি বাদে কানাডার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দ্বিধায় পড়তে যেতে পারেন। বিসিটিআই-এ পড়তে চাইলেও, নির্দিষ্ট কোর্স এর জন্য আইসিইএস এর মূল্যায়ন না নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার পিএইচডি গবেষক নাজমুল হাসান তপু জানান, বিসিআইটি নামক কানাডিয়ান এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মূল্যায়ন সার্ভিস আইসিইএস দ্বারা প্রকাশিত বাংলাদেশি কিছু প্রাইভেট ভার্সিটির তালিকা যেগুলো থেকে অর্জিত ডিগ্রি একাডেমিক ইকুইভ্যালেন্স করতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, আমি খুব ভালো করেই জানি বিসিআইটি এর ব্যাপ্তি ও পরিসর সম্পর্কে। তাদের প্রতিষ্ঠান যে এলাকায় আমি ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে সেই এলাকায় থাকি। কানাডার সেকেন্ড টপ ইউনিভার্সিটি ইউবিসি-তে আমি পিএইচডি পড়াশুনা করছি। সে জন্যেই বললাম বিসিআইটি খুবই ছোট খাটো একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্রেফ কলেজ লেভেলের, কোনো ইউনিভার্সিটি নয় এটা। তাই এ কারণে তারা লিস্টে প্রদর্শিত বাংলাদেশি ভার্সিটিসমূহ থেকে অর্জিত ডিগ্রির একাডেমিক ইকুইভ্যালেন্স মূল্যায়ন হয়তো করতে পারছে না তাদের নিজেদের অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার কারণে।
আইসিইএস ছাড়াও বহুল পরিচিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল বাংলদেশি প্রাইভেট ভার্সিটির স্টুডেন্ট তাদের অর্জিত ডিগ্রি মূল্যায়ন করতে পারবেন। যেমন- ওয়ার্ড এডুকেশন সার্ভিস (ডব্লিউইএস), ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর কম্পারেটিভ এডুকেশন সার্ভিস (সিইএস) ইত্যাদি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দিল আফরোজ বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রকাশিত তালিকাটি কানাডা সরকার অনুমোদিত কিছু নয়। তাই চিন্তার কারণ নেই। আর এছাড়াও তালিকায় ঢাকার উত্তরার ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার নাম রয়েছে, যেটি ইউজিসির দেয়া লাল তারকা চিহ্নযুক্ত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তাই এ বিষয়ে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইন্সটিটিউশন অব টেকনোলজি থেকে বাংলাদেশের ৩৩টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ মূল্যায়নের অক্ষমতা প্রকাশ করেছে। তার মানে এই নয় যে, এটা ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের কোনো ঘাটতির আছে, বরং ওই কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
তাছাড়া ওই বিশ্ববিদ্যালয় বাদে কানাডার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো ধরণের বাধা ছাড়াই পড়ালেখা করতে যেতে পারবেন।

কোন মন্তব্য নেই