নিউজ ফাস্ট

‘যারা ফুটবল বোঝে না, তারাই মেসির সঙ্গে ম্যারাডোনার তুলনা করে’


মেসি এবং ম্যারাডোনা দু’জন দুটি আলাদা গ্রহ। দু’জনের মধ্যে তুলনা যারা করেন তারা ফুটবলই বোঝেন না বলে মন্তব্য করেছেন ম্যারাডোনা পুত্র দিয়েগো সিনাগরা। সম্প্রতি ইতালির রেডিও মার্তেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, সৌদি আরবের বিপক্ষে পরাজয়ের দিনে ভয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা দল। এমন পরাজয় মানসিক কষ্টের।


মেসি নাকি ম্যারাডোনা? কে সেরা? দুই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে নিয়ে তুলনামূলক এই প্রশ্নটা সার্বজনীন। যেটার সঠিক উত্তর হয়তো আপেক্ষিক হয়েই থাকবে ফুটবল ভক্তদের কাছে।


হতাশার হারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শুরুর পর যখন কথা বলেন ফুটবল ঈশ্বর খ্যাত দিয়েগো আর্মান্দো ম্যরাডোনার ছেলে, তখন মেসি-ম্যারাডোনাকে ঘিরে সেই পুরোনো প্রশ্নটা তার দিকে ছুড়তেই পারেন সাংবাদিকরা। তবে সেই প্রশ্নের উত্তরে কোনোরকম পক্ষপাতিত্ব না করে উলটো আঙুলটা প্রশ্নকারীদের বিরুদ্ধেই তুললেন দিয়েগো জুনিয়র।


দিয়েগো সিনাগরা বলেন, মেসি ও আমার বাবার মধ্যকার তুলনা তারাই করে যারা ফুটবল বোঝে না। ফুটবল দেখেও না। আমরা এখানে ভিন্ন দুটি গ্রহের কথা বলছি। আমি মেসির দিকে আঙুল তুলতে চাই না


আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ম্যারাডোনা গোল করেছেন ৩৪টি। জিতিয়েছেন ৮৬ সালের বিশ্বকাপ। দেশের জার্সিতে লিওনেল মেসির গোল সংখ্যা ৯২ হলেও অধরা সেই সোনালি ট্রফি। বলা হচ্ছে এটাই লিওর শেষ বিশ্বকাপ আর সেখানেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু। ম্যারাডোনা পুত্রও পুড়ছেন সেই পরাজয়ের আগুনে।


দিয়েগো সিনাগরা আরও বলেন, এই পরাজয়ে আমি বিপর্যস্ত। বিশ্বাসই করতে পারছি না যে এই অঘটন সত্যিই ঘটেছে। আমার মনে হয় আর্জেন্টিনা ভয় পেয়েছিল। সৌদির কাছে হেরে যাওটা মানসিক চাপের।


দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা সিনাগরা হলেন ম্যারাডোনার ইতালীয় পুত্র। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের বছর বান্ধবী ক্রিস্টিনা সিনাগরার গর্ভে জন্ম হয় তার। তবে শুরুর দিকে তাকে নিজের পুত্র বলে স্বীকৃতি দেয়নি ম্যারাডোনা। অবশেষে ২০১৬ সালে সিনাগরাকে ম্যারাডোনা জুনিওর হিসেবে মেনেন নেন এই কিংবদন্তী। মৃত্যুর আগে শেষ চার বছর এই দ্বিতীয় ছেলের সাথে ভালোই সম্পর্ক ছিল ম্যরাডোনার।

কোন মন্তব্য নেই