ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস জরুরি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস জরুরি


স্বাস্থ্য ডেস্ক | Times Express 24

ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এ রোগ দেখা দেয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

১. সুষম খাবার খান

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবারের ধরন ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, পরিমিত পরিমাণে পূর্ণশস্য এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন।

সাদা ভাত, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে ডায়াবেটিস হলেই ভাত বা ফল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পরিমাণ ও খাবারের ধরন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

২. নিয়মিত হাঁটুন ও শরীরচর্চা করুন

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

সক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের লক্ষ্য রাখা যায়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতার হতে পারে উপযোগী ব্যায়াম। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে একটু হাঁটুন।

তবে যাঁদের হৃদ্‌রোগ, পায়ের সমস্যা বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে, তাঁরা ব্যায়ামের ধরন চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবেন।

৩. রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারও ক্ষেত্রে বাড়িতে গ্লুকোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ মূল্যায়নে চিকিৎসক HbA1c পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

পরীক্ষার ফল লিখে রাখলে কোন খাবার, ব্যায়াম বা ওষুধের পর রক্তে শর্করার পরিবর্তন হচ্ছে, তা বুঝতে সুবিধা হয়।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না

রক্তে শর্করার মাত্রা কমে এলেও নিজে থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ করা উচিত নয়। ওষুধের মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত গ্লুকোজ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অচেতন ব্যক্তিকে মুখে খাবার বা পানীয় দেবেন না; জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

ঘুমের ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত সময়ে ঘুমানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা পছন্দের কাজে সময় দেওয়া উপকারী হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো।

৬. পায়ের যত্ন নিন

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ও রক্তনালির সমস্যা হলে পায়ে ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রতিদিন পায়ের তলা ও আঙুলের ফাঁক পরীক্ষা করুন। পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।

পায়ে ক্ষত, ফোসকা, লালচে ভাব বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

রক্তে শর্করা বারবার বেশি বা কম হলে, অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও প্রস্রাব হলে, অকারণে ওজন কমলে কিংবা চোখে ঝাপসা দেখলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বমি, পেটব্যথা, দ্রুত বা গভীর শ্বাস, তীব্র দুর্বলতা কিংবা চেতনা পরিবর্তনের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।

মনে রাখবেন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা সবার জন্য এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ব্যবহৃত ওষুধ ও অন্যান্য রোগ বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা ঠিক করা উচিত।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার জন্য; এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কোন মন্তব্য নেই