কোকা-কোলা, কফি ব্যবসায় আসছে
শত বছরের পুরনো কোমল পানীয় কোম্পানি কোকা-কোলার পণ্য তালিকায় যেসব পণ্য রয়েছে, সেগুলো সাধারণত ঠাÐা অবস্থায় উপভোগ করা হয়, অবশ্যই উষ্ণ অবস্থায় নয়। প্রথমবারের মতো কোম্পানিটি তাদের দীঘির্দনের ঐতিহ্যগত পণ্য তালিকায় যুক্ত করতে যাচ্ছে উষ্ণ পানীয় বা কফি। আর সে লক্ষ্যে গত শুক্রবার কোকা-কোলা যুক্তরাজ্যের কফি চেইন কস্তা কফিকে ৫১০ কোটি ডলারে কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
কোকা-কোলার এমন পদক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে গণ্য করা হচ্ছে। সাধারণত দেখা যায়, কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাবনাময় সমশ্রেণির নতুন কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের পোটের্ফালিও সাজিয়ে থাকে। যেমন কিছুদিন আগে কোকা-কোলা স্পোটর্স পানীয় প্রস্তুতকারী কোম্পানি বডিআরমোরে বিনিয়োগ করেছে, অন্যদিকে কোকা-কোলার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী পেপসি ইসরাইলের সোডা প্রস্তুতকারী কোম্পানি সোডাস্টিম কিনে নেয়ার কথা জানিয়েছে।
এসব বিনিয়োগের চেয়ে জনপ্রিয় কফিশপে বিনিয়োগ পুরোপুরি ভিন্ন একটি বিষয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোকা-কোলার প্রধান নিবার্হী জেমস কুইনকে জানান, এই একীভ‚তকরণ শুধু যে কস্তার নানা ধরনের পণ্য যেমনÑ কফি ভেন্ডিং মেশিন, অন-দ্য-গো আউটলেট, রেডি টু ডিঙ্ক আইসড কফি ইত্যাদিকে আমাদের হাতের নাগালে এনে দেবে তা নয় বরং বলা যায় এর মাধ্যমে আমরা রেস্টুরেন্টের মালিকানা হাতে পেতে যাচ্ছি।
কোকা-কোলা ছাড়া অন্যান্য নামি খাবার ব্র্যান্ডগুলোও কফিতে বিনিয়োগ করছে। যেমনÑ নেসলে ও স্টারবাকস একটি ‘বৈশ্বিক কফি জোট’ গঠন করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নেসলে বিশ্বব্যাপী স্টারবাকসের প্যাকেটজাত কফি ও চা বিক্রি করার জন্য ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। অবশ্য, নেসলে বেশ আগে থেকেই ‘নেসক্যাফে’ ও ‘নেসপ্রেসো’ নামের দুটি সুপরিচিত ব্র্যান্ডের মাধ্যমে কফির বাজারে শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে গত জানুয়ারিতে জেবিএস ব্র্যান্ডের কফি একীভ‚ত হয় ড. পেপার স্ন্যাপলের সঙ্গে।
কোকা-কোলা এর আগেও তাদের পোটের্ফালিওতে কফি অন্তভুর্ক্ত করার চেষ্টা করে। তবে তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যথর্তায় পযর্বসিত হয়, কারণ কফি বিক্রি করতে যে সম্পদ ও প্লাটফমের্র প্রয়োজন কোকা-কোলার সেটা ছিল না। বলা হচ্ছে, এবার কস্তা কফি কোকা-কোলার প্রয়োজনীয় প্লাটফমর্ ঘাটতি পূরণ করবে। শুধু কি তাই, কস্তার একীভ‚ত হওয়ার মাধ্যমে কোকা-কোলা এখন সম্পূণর্ একটি পানীয় কোম্পানিতে পরিণত হলো, যেখানে পানি থেকে শুরু করে স্পোটর্স ড্রিংক সবকিছুই বিক্রি করা হয়।
কস্তার অন্তভুির্ক্ত কোকা-কোলার ক্রেতাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূণর্। কেননা, ক্রেতাকে ভালো একটি কফির অপশন বেছে নেয়ার সুযোগ না দেয়াটা কোম্পানিটির জন্য হতাশাজনক বলে গণ্য করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কস্তার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী স্টারবাকস। কোকা-কোলার প্রধান নিবার্হী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে কস্তার নতুন করে কোনো আউটলেট খোলার পরিকল্পনা নেই, বরং সেখানে কস্তার অন্যান্য পণ্য বিক্রির ওপরই তাদের মনোযোগ থাকবে।
বিশ্বের ৩২টি দেশে কস্তার চার হাজার আউটলেট রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাযর্ক্রম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে। কেননা, যত বেশি আউটলেট থাকবে, ভোক্তাদের মধ্যে কফির প্রচারণা তত বেশি হবে। ফলস্বরূপ, এক সময় মানুষের দিনলিপিতে কফির প্রবেশ ঘটবে। সে ক্ষেত্রে আরও বেশি মানুষ কস্তার কফি বা কফি বিজ কিনবে। সূত্র: সিএনএন মানি

কোন মন্তব্য নেই