বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে এখন গোটা বিশ্বই চিন্তিত
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে এখন গোটা বিশ্বই চিন্তিত। কারণ এক হিসেবে দেখা গেছে, গত ১৫০ বছরে উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের পানির স্তর বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। হিমবাহ ও বরফের চাদর গলে পানি হচ্ছে, আর সেই পানি গিয়ে মিশছে সমুদ্রে। সম্প্রতি এক তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে আগামী দশকের মধ্যে সেই পানির জন্য সমুদ্রের পানির স্তর দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময় অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে সমুদ্রের পানি। ক্রমেই তা উপক‚লকে গ্রাস করছে। ফলে দ্রæত থেকে দ্রæততম হারে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কয়েকটি নগরের। বিশেষ করে উপক‚লের জন্য এটি বেশি আশঙ্কার বিষয়।
গত ১২ মাচর্ এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আর এটি প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সমুদ্রের পানির স্তর দ্রæত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখন পযর্ন্ত তারা প্রকাশ করতে পারেননি।
অন্যদিকে, স্যাটেলাইট ডেটা (কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য) দেখাচ্ছে, গত ২৫ বছরে সমুদ্রে পানির স্তর বেড়েছে ২.৭ ইঞ্চি (৭ সেন্টিমিটার)। আর প্রতিবছর কমবেশি ০.১২ ইঞ্চি (০.৩ সেন্টিমিটার) করে পানির স্তর বাড়ছে। এত কম সময়ের মধ্যে সমুদ্রের পানির স্তরের উত্থান-পতনের ফলে পরিস্থিতি এখন ঘোলাটে হয়ে দঁাড়িয়েছে। সমুদ্র এখন এই লেভেলে (স্তর) থাকবে নাকি বেড়ে যাবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। কারণ, ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছিল, আগামী এক দশকে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবতর্ন হওয়ার কারণে সমুদ্রের পানির স্তর দ্রæত হারে বাড়বে।
কিন্তু গত ১২ মাচের্র গবেষণায় বলা হয়েছে, আগের গবেষণার ফল অনুসারে সত্যিই দ্রæতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের পানির স্তর। তাদের বিশ্লেষণ সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পানির স্তর বৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
নিশকানেন সেন্টারের জলবায়ু-সম্পকির্ক বিশেষজ্ঞ জোসেফ মাজকুট জানিয়েছেন, আগামীতে সমুদ্রের পানির স্তর বাড়বে ঠিকই। তবে ঠিক কতটা বৃদ্ধি পাবে, সেটটা এই মুহ‚তের্ বলা বেশ শক্ত। নতুন যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এ কথাই বলা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানির স্তর উঠতে পারে ২৬ ইঞ্চি (৬৫ সেন্টিমিটার)। নতুন এই গবেষণা এটাও বলছে, গত দশকের তুলনায় এই দশকে ৮ ইঞ্চি বেড়েছে সমুদ্রের পানির স্তর। এখন পানির স্তর যা রয়েছে, ২১০০ সালে সেটা এর দ্বিগুণ হবে।
এখন হয়ত সেটা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে গ্রিনল্যান্ড ও আন্টাকির্টকার বরফের চাদর গলতে থাকবে। আর তখনই বাড়বে সমুদ্রের পানির স্তর। যদি তা খুব তাড়াতাড়ি পাল্টায়, তাহলে সবার আগে এর ফল ভুগবে যুক্তরাষ্ট্রের সব উপক‚লই। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে বাড়বে ঝড়ের আশঙ্কাও। সংবাদসূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট, কে-২৪ নিউজ, ইনডিপেনডেন্ট


কোন মন্তব্য নেই