বিজ্ঞাপনে গুগলের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থানের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাও অ্যালফাবেট মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিনটিকে নীতিমালার আওতায় আনতে চাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগল ম্যাপ ও ইউটিউব ব্যবহার করে এর ভোক্তাদের অনলাইনে বিভিন্ন সামগ্রী খোঁজার তথ্য সংগ্রহ করে গুগল। পরে সে অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখায়, যা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞাপনদাতাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যতদিন গুগল এটি বন্ধ না করবে, ততদিন অস্ট্রেলিয়ায় তার বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ রাখতে বলা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গুগলের একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্য গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিজেদের তথ্যভাণ্ডারকে ব্যবহার করছে।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশনের প্রধান রড সিমস জানান, এ ধরনের আইন নিয়ে এখন ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ আলাপ-আলোচনা করছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী বছর নাগাদ এ ধরনের আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় না যে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে আছি।
এরই মধ্যে গুগল জানিয়েছে, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া থেকে তাদের মূল পরিষেবাগুলো প্রত্যাহার করে নিতে তারা প্রস্তুত ছিল। কারণ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুঁজতে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ দিতে তাদের বাধ্য করা হচ্ছিল।
গুগল অবশ্য এ বিষয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে এসিসিসির প্রতিবেদনটি প্রকাশের কিছু আগে এক ব্লগপোস্টে গুগল জানায়, তাদের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ১৫ হাজারেরও বেশি অস্ট্রেলিয়াকে চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি দেশটির বার্ষিক অর্থনীতিতে ২৪৫ কোটি ডলারের অবদান রেখেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের বিদ্যমান প্রতিযোগিতা আইনটি গুগলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায়। এসিসিসির ২০০ পাতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন বিজ্ঞাপন খাতে গুগলের আধিপত্য এতটাই প্রবল যে বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়। সে কারণেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে তারা।
এসিসিসি বলছে, সার্চ ইঞ্জিন, ইউটিউব ও ম্যাপ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার বাজার থেকে বিপুলভাবে লাভবান হচ্ছে গুগল। পাশাপাশি এসব তথ্য তারা কোন উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যবহার করছে তা প্রকাশ করা উচিত। তাদের কারণে বিজ্ঞাপনের বাজারে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। যেটির সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করে অস্ট্রেলিয়া।

কোন মন্তব্য নেই