একত্রে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
দুই দেশের মন্ত্রিসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউএস-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল (টিটিসি) নামে নতুন একটি ফোরাম গঠন করেছেন। পাশাপাশি সংবেদনশীল দ্বৈত প্রযুক্তির ব্যবহার, রফতানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে একত্রে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন।
বিবৃতিতে সরাসরি চীনের কথা উল্লেখ না থাকলেও বলা হয়, প্রযুক্তি খাতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে সেটি থেকে আমাদের ব্যবসা, গ্রাহক ও কর্মীদের সুরক্ষিত রাখতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করব। বিশেষত তাদের কাছ থেকে যাদের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা হুমকির মুখে রয়েছে।
এ খাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বহাল রেখেছে বাইডেন প্রশাসন। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করতে চাইছে। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন, বাণিজ্য সচিব গিনা রাইমন্ডো, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন তাই, ইইউ ট্রেড চিফ ভ্যালডিস ডোমব্রোভস্কিস এবং ইউরোপিয়ান কমিশনার কমপিটিশন মার্গ্রেথে ভেস্টেগার।
এ নেতারা একটি সাবেক স্টিল রোলিং মিলের কঙ্কালের ভেতরে নির্মিত একটি রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্রে মিলিত হয়েছিলেন। পিটসবার্গের শিল্প-পরবর্তী পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে এ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়াকে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্স। এ ইস্যুতে আলোচনা ভিন্ন দিকে মোড় নিতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। এ ক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে ক্যানবেরার ৪ হাজার কোটি ডলারের সাবমেরিন চুক্তি বাতিল হয়ে যাচ্ছিল।
অন্যদিকে অর্ধপরিবাহী সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ সরবরাহে যে স্বল্পমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ করা হবে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা হবে এবং গবেষণা, উৎপাদন কার্যক্রম, ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল অবস্থা তৈরিতে এ ফোরাম কাজ করবে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে ইউএস-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের (টিটিসি) দ্বিতীয় বৈঠকের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। তবে ইইউর কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালের বসন্তে ইউরোপে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রযুক্তি বাজারে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বা প্রভাব দমনে আরো উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। চূড়ান্ত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। বিবৃতিতে ফোরামভুক্ত দেশগুলো জানায়, ট্রান্সআটলান্টিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা প্লাটফর্ম নীতিমালার ভিত্তিতে ভুল তথ্য, পণ্যের সুরক্ষা, নকল পণ্য এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট বন্ধে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিশেষ করে অ্যালফাবেটের গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল, অ্যামাজনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজার আধিপত্য দমনে একত্রে কাজ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্টদের লড়াই কঠিন করে তুলবে।

কোন মন্তব্য নেই