চিপস্বল্পতায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্টফোনের বিক্রি কমবে
কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের সর্বশেষ গ্লোবাল স্মার্টফোন কোয়ার্টারলি শিপমেন্ট ফোরকাস্টস প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্টফোন বিক্রিতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৬ শতাংশে নেমে আসবে। যেখানে এর আগে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অধিকাংশ স্মার্টফোনের মূল যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ কাঁচামাল ক্রয়ের চাহিদার কথা জানিয়েছিল, তার মাত্র ৮০ শতাংশ সরবরাহ পেয়েছিল। কিছু প্রতিষ্ঠান ৭০ শতাংশ কাঁচামাল প্রাপ্তির কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বে চলমান চিপ সংকটও যে খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে এমন কিছুর সম্ভাবনাও নেই। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রাক্কলন, করোনা মহামারী ও চিপ সংকটের কারণে প্রযুক্তি খাতের ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এটি ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্টফোন বিক্রির পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলেছে।
২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বিশ্বের স্মার্টফোন শিল্প। চলতি বছর এ খাতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার হবে বলে ধারণা করেছিলেন প্রযুক্তিবিদরা। গত বছরের শেষদিকে স্মার্টফোন উৎপাদনকারীরা যন্ত্রাংশের জন্য বড় ক্রয়াদেশ দেয়। পাশাপাশি বছরের প্রথমার্ধে করোনা-পরবর্তী সময়ে ভোক্তাদের স্মার্টফোন কেনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু চিপ সংকটের কারণে অনেক প্রত্যাশাই অপূর্ণ রয়ে গেছে।
একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে চিপ সংকটের কারণে ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে প্রযুক্তি বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। তবে কিছু উপাদানের মজুদ, উন্নত পরিকল্পনা ও ক্রয়াদেশের কারণে ডিডিআইএস এবং পিএমআইসির সংকট থাকলেও এ খাতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কয়েক প্রান্তিক ধরে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ওয়্যারহাউজগুলোতে যেসব যন্ত্রাংশ আগে থেকে পরিপূর্ণ মজুদে ছিল সেগুলোও ফুরিয়ে আসছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রয়াদেশকৃত যন্ত্রাংশের সরবরাহ সংকট।
স্মার্টফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্যতম উপাদান হলো প্রসেসর। নতুন করে যেসব চিপ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে উৎপাদনস্বল্পতার কারণে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কোয়ালকম ও মিডিয়াটেকের মতো প্রতিষ্ঠান এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কম প্রসেসর সরবরাহ করছে। ফলে স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
অন্যদিকে চিপ সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থায় চীনের একক আধিপত্য রোধ এবং বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দুই দেশের মন্ত্রিসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউএস-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল (টিটিসি) নামে নতুন একটি ফোরাম গঠন করেছেন। পাশাপাশি সংবেদনশীল দ্বৈত প্রযুক্তির ব্যবহার, রফতানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে একত্রে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই