প্রতিরোধ সংগঠনগুলো বলছে গুপ্তচরের আস্তানা খুলতে চায় তেল আবিব
এসব সংগঠন বলছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে যেসব আরবদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কারণে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্ব শুধু প্রলম্বিত হবে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ইসরাইলি বিমানে চড়ে ইয়াইর লাপিদ বাহরাইন যান এবং মানামা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। গত বছর ইসরাইলের সঙ্গে বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর এই প্রথম ইহুদিবাদীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা মানামা সফল করলেন।
মানামা পৌঁছে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আলে খলিফা এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন হামাদ আলে খলিফার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সফরে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইনের সঙ্গে ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছেন। তবে গতকালই বাহরাইনের রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সমাজকর্মীরা ইসরাইলি মন্ত্রীর সফরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়েছেন।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে হামাস
এদিকে, ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, ইহুদিবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর আরব জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অপরাধ। হামাস আরো বলেছে, তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি করে বাহরাইন যে পাপ করেছে তার বর্ধিত অংশ হচ্ছে এই সফর। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকে কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের পলিটব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ বলেছেন, প্রতিরোধকামী দেশগুলোতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টা সফল হবে না। যারা এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গাজাভিত্তিক প্রতিরোধকামী সংগঠন ইসলামি জিহাদ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ঐতিহ্যগত পরিচয় বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইন সফর করছেন। বাহারাইনে ইসরাইলের দূতাবাস খোলার কর্মসূচিকে ইসলামি জিহাদ 'গুপ্তচরের আখড়া উদ্বোধন' বলে মন্তব্য করেছে।

কোন মন্তব্য নেই