উত্থানের দিনে দর বৃদ্ধির শীর্ষে বহুজাতিক কোম্পানি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

উত্থানের দিনে দর বৃদ্ধির শীর্ষে বহুজাতিক কোম্পানি

 
অব্যাহত দর পতনের পর বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কারনে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। সূচকের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লেনদেন।


রোববার (১৩ মার্চ) দিন শেষে দেখা যায় দর ও সূচক বৃদ্ধিতে অগ্রণি ভূমিকা রেখেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। দিন শেষে সূচক বেড়েছে ৯৭ পয়েন্ট। এখানে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। একই সাথে দাম বৃদ্ধির তালিকায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।


দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া ৯৭ পয়েন্ট সূচকের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশই বাড়িয়েছে বহুজাতিক চারটি কোম্পানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩.৬২ শতাংশ বাড়িয়েছে গ্রামীণফোন। ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর সূচক বেড়েছে ৭.৬১ পয়েন্ট। লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের সূচকে যোগ করেছে ৬.৩২ পয়েন্ট এবং রবির সুচক বেড়েছে ৫.০৩ পয়েন্ট।


এদিকে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার দিকে থেকে গ্রামীণফোনের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ১.৯৬ শতাংশ, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের দর বেড়েছে ৫.০৭ শতাংশ এবং রবির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.৬৭ শতাংশ।


এদিকে দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কয়ার ফার্মা ৩.৫৫ পয়েন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড ৩.৩৭ পয়েন্ট, পাওয়ারগ্রিড ২.২৮ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা ২.২১ পয়েন্ট, সামিট পাওয়ার ২.০৫ পয়েন্ট এবং সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ১.৮ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে।


পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের শুরুতে বিনিয়োগকারিদের মধ্যে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এক ধরনের আতংক কাজ করছিল। এখন তা কেটে যেতে শুরু করেছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করেছে।


বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছাইদুর রহমান বলেন, ‘একটা বড় ধাক্কা সামলে বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। পতন ঠেকাতে বিএসইসির পদক্ষেপগুলো কাজে দিচ্ছে। আশা করছি বাজার এখন আস্তে আস্তে ভালোর দিকে যাবে। গত কয়েক দিনের লেনদেনে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


লেনদেন সেভাবে না বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটা বড় ধ্বসের পর সবাই এখন সতর্ক বিনিয়োগ করছে। সে কারণেই লেনদেন ধীরে ধীরে বাড়ছে। হঠাৎ করে বেশি লেনদেন হওয়াটাও কিন্তু বাজারের জন্য ভালো না। আমি মনে করি বর্তমান বাজারে এক-দেড় হাজার টাকা লেনদেন হলে মন্দ নয়।


তিনি বলেন, বিনিয়োগকারিরা রাতারাতি বিনিয়োগ বাড়াবে-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বাজারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তারা বিনিয়োগ বাড়াবে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারিদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।


ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, রোববার ডিএসইতে ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানের ৩০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৫টি শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৭টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দাম।


তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৯৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৭৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইর অপর দুই সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৮ পয়েন্ট। রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৯৮ কোটি ৭৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকার শেয়ার। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬১ কোটি ২০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার শেয়ার। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কিছুটা কমছে।


ডিএসইতে রোববার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার। এরপর ছিল বিবিএস, বিডিকম,ডিএসএসএল, ওরিয়ন ফার্মা, অগ্নি সিস্টেমস, বিএসসি, একমি পেস্টিসাইডস, ইয়াকিন পলিমার এবং ফরচুন সুজ লিমিটেড।


অপর পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৩৮ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৬০টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দাম। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ২৯২ টাকার শেয়ার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ২৭ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকার শেয়ার।

কোন মন্তব্য নেই