পেনশনের টাকায় শিশুপার্ক গড়লেন শিক্ষক নাসির, স্বপ্ন দেখেন ‘শিশুরাজ্য’ গড়ার - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

পেনশনের টাকায় শিশুপার্ক গড়লেন শিক্ষক নাসির, স্বপ্ন দেখেন ‘শিশুরাজ্য’ গড়ার

 

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

পেনশনের টাকায় শিশুপার্ক গড়লেন শিক্ষক নাসির, স্বপ্ন দেখেন ‘শিশুরাজ্য’ গড়ার


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | টাইমস এক্সপ্রেস ২৪

গড়াই নদীর তীরে গাছ, বই আর শিশুর হাসিতে মুখর এক টুকরো স্বপ্নলোক—এ যেন আনন্দের রাজ্য। জায়গাটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাসির উদ্দিনের বাড়ির বাগান।

প্রতি শুক্রবার এই বাগান রূপ নেয় শিশুদের মিলনমেলায়। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নাফিজা জানায়, “এখানে সব ঋতুতেই উৎসব হয়। ছবি আঁকা, খেলা আর বই পড়া—সবকিছুই আনন্দের।”

৭৫ বছর বয়সী নাসির উদ্দিন বলেন, “শিশুদের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চাই।” নিজের ৩৩ শতাংশ জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘কুলছুম নেছা–জালাল গান্ধী শিশুপার্ক’। এখানে রয়েছে পাঠাগার, জাদুঘর, সংবাদ সংগ্রহশালা, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও শতাধিক বিরল প্রজাতির গাছ।

২০০৫ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়েই শুরু হয় এই যাত্রা। নাসির উদ্দিনের ইচ্ছে ছিল—“শিশুরা যেন প্রকৃতি, ইতিহাস ও বইয়ের সঙ্গে মিশে বড় হয়।”

পার্কটিতে প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে—ফলশাহী, বনকাঁঠাল, হরগৌড়ি, মিষ্টি আমলকীসহ বহু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। প্রতিটি গাছে নাম লেখা, যাতে শিশুরা পড়ে চিনতে পারে।

বাগানের মাঝখানে তাঁর মায়ের নামে গড়া পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে। পাঠাগারে শিশুদের জন্য ৫০০–এরও বেশি বই, আর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে সেন ও পাল যুগের নিদর্শন, গ্রামীণ জীবনের সামগ্রী যেমন—ঢেঁকি, হারিকেন, পালকি, নাঙল, ডাকটিকিট ইত্যাদি।

নাসির উদ্দিন জানান, নানি ও মায়ের পুরোনো জিনিসপত্র থেকেই জাদুঘর গড়ার অনুপ্রেরণা পান। তাঁর মতে, “শিশুরা এখানে এসে অতীতকে জানতে পারে, শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়।”

স্থানীয় গৃহিণী রওশনআরা বলেন, “নাসির স্যার শিশুদের নিয়ে পহেলা বৈশাখ, ফল উৎসবসহ নানা আয়োজন করেন। মেয়েকে নিয়ে এলে মনে হয়, স্বপ্নের দেশে এসেছি।”

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “নাসির উদ্দিনের মতো মানুষ সমাজের আলোকবর্তিকা। তাঁর উদ্যোগে শিশুরা যেমন শিখছে, তেমনি প্রকৃতির কাছেও ফিরছে।”

তিনি জানান, গত বছর সরকারিভাবে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, ভবিষ্যতে পার্কটির অবকাঠামো উন্নয়নে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

নাসির উদ্দিনের স্বপ্ন একটাই—একদিন এখানে গড়ে উঠবে ‘শিশুরাজ্য’, যেখানে বই, গাছ আর হাসির সুরে বড় হবে নতুন প্রজন্ম।

কোন মন্তব্য নেই