‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’: এআই এজেন্টের অধীনে কায়িক শ্রম দেবে মানুষ
‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’: এআই এজেন্টের অধীনে কায়িক শ্রম দেবে মানুষ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সময়: ০২:৩৯ AM
TimesExpress24 | প্রযুক্তি ডেস্ক
ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টদের হয়ে কায়িক শ্রম দেবে মানুষ—এমনই অদ্ভুত ও বিতর্কিত একটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এসেছে ‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’। প্ল্যাটফর্মটি নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে “এআইয়ের জন্য মিটস্পেস লেয়ার”, অর্থাৎ এআই যেখানে বাস্তব দুনিয়ায় মানুষের শরীরকে ব্যবহার করে কাজ করাবে।
এই ধারণাকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বহুজনই ‘ভুতুড়ে’ ও ‘অমানবিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। খবর ফোর্বস।
মানুষ নয়, এবার বস হবে এআই
এই প্ল্যাটফর্মটি অনেকটা গিগ ইকোনমি প্ল্যাটফর্ম টাস্কর্যাবিট–এর মতো। তবে পার্থক্য হলো—এখানে কাজের মালিক কোনো মানুষ নয়, বরং একটি এআই এজেন্ট।
যেসব কাজ এআই নিজে করতে পারে না—
-
পার্সেল সংগ্রহ
-
বিজ্ঞাপনের বোর্ড ধরে দাঁড়ানো
-
কাউকে উপহার পৌঁছে দেওয়া
এ ধরনের টাস্ক প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা হবে। আগ্রহীরা কাজ সম্পন্ন করলে পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে।
৮১ হাজার নিবন্ধন, কিন্তু সক্রিয় এআই এজেন্ট মাত্র ৮২টি
প্ল্যাটফর্মটির দাবি, এখন পর্যন্ত ৮১ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি কাজের জন্য নিবন্ধন করেছে।
তবে প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম গিজমোডো জানিয়েছে—
-
নিবন্ধিতদের খুব কম মানুষই তাঁদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট সংযুক্ত করেছেন।
-
আরও বড় অসামঞ্জস্য হলো—৮১ হাজার কর্মীর বিপরীতে সক্রিয় নিয়োগদাতা হিসেবে থাকা এআই এজেন্টের সংখ্যা মাত্র ৮২টি।
প্রতিষ্ঠাতা কে?
এই অদ্ভুত প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার লিটেপলো। তার দাবি, এআই এজেন্টরা মানুষের কায়িক শ্রম বুকিং করতে, কাজ বরাদ্দ দিতে এবং ক্রিপ্টোতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে সক্ষম।
প্ল্যাটফর্ম চালুর সময় লিটেপলো জানায়—নিবন্ধিতদের মধ্যে একজন ‘অনলিফ্যানস’ মডেল ও একজন এআই স্টার্টআপ সিইওও আছেন। তবে এসব দাবি যাচাইযোগ্য নয়।
আরও বিতর্ক তৈরি হয় যখন সাইটটি দাবি করে যে সেখানে ৭৩ হাজারের বেশি ‘ভাড়ার যোগ্য মানুষ’ আছে, অথচ “Browse Human” ট্যাবে দৃশ্যমান প্রোফাইল সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৩টি।
শ্রম নিরাপত্তা ও আইন নিয়ে উদ্বেগ
এই প্ল্যাটফর্মটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নাকি বড় আকারের ব্যবসা—এটি পরিষ্কার নয়। তবে শ্রম অধিকারকর্মীরা বলছেন—
-
প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করে এআই-চালিত এই শ্রমবাজার কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হতে পারে
-
শারীরিক ঝুঁকি, পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ ও অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন
এমনকি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হয়েছে উদ্বেগজনক বাক্য—
“Robots need your body” (রোবটদের আপনার শরীরের প্রয়োজন)।
কোথা থেকে এ ধারণা এসেছে?
‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’ মূলত OpenCL, Multbook–এর মতো ভাইরাল এআই এজেন্ট টুলের ইকোসিস্টেম থেকে উঠে এসেছে। এসব প্রকল্প নির্মাতাদের মতে এগুলো “vibe coding” পদ্ধতিতে তৈরি—অর্থাৎ কোড পুরোপুরি পরীক্ষা ছাড়াই বাজারে ছাড়ে, পরে এআই নিজেই ত্রুটি ঠিক করে।

কোন মন্তব্য নেই