জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়ছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Times Express 24
ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কাজ এগিয়ে চলছে।
সোমবার থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে চলমান সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আর্থিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামলানোই লক্ষ্য
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
তবে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, অর্থায়নের ধরন কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল বিদ্যমান তহবিল বা চলমান প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবিলায় আরও কার্যকর সহযোগিতার পথ খোঁজা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও কাজ হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলোর সমন্বয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বাংলাদেশ
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের বার্ষিক সাধারণ সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান রয়েছেন।
এই সম্মেলনের আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি হয় কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এখনো প্রক্রিয়াধীন। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে সঠিক পথে এগোচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, চলমান আলোচনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ধরনের সহায়তা পায় এবং প্রস্তাবিত কাঠামোগত চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগের অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদন: Times Express 24 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কোন মন্তব্য নেই