চকবাজারে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে জনসাধারণকে সরে যাওয়ার আহ্বান
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। উদ্ধারকর্মীরা যাতে নিরাপদে ও দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের রাস্তা ফাঁকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, চলছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা
ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় কমে এলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করা এবং রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনাও সহজ হবে।
ব্যাগের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাতের প্রাথমিক ধারণা
প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের স্থানে ব্যাগ তৈরির একটি কারখানা অথবা গোডাউন ছিল। আশপাশে কাপড়ের গোডাউনও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাগের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঘটনাস্থলে দাহ্য পণ্য ও কাপড়ের মজুত থাকলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আশপাশের পরিস্থিতি সামাল দেওয়াও জরুরি হয়ে ওঠে।
বিকেল থেকে আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের সাততলা একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে পাশের আরেকটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু রাস্তা ও মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতি জরুরি সেবা কার্যক্রমকে জটিল করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা মেনে চলা, ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং উদ্ধারকর্মীদের চলাচলের পথ খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর জানা যাবে।
সংবাদ সূত্র: ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে দেওয়া বক্তব্য ও প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য।
প্রকাশক: Times Express 24

কোন মন্তব্য নেই