চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার নদীর পানি বৃদ্ধি, বিপৎসীমার নিচে থাকায় আপাতত স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রভাবে মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানির স্তর বেড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানির স্তরে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও পানি কমছে, কোথাও স্থিতিশীল রয়েছে, আবার চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি নদীতে পানির স্তর বেড়েছে।
আগামী সাত দিনে কেমন থাকবে বৃষ্টিপাত?
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং এর উজানসংলগ্ন এলাকায় সামগ্রিকভাবে হালকা থেকে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার উজান, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকা এবং আশপাশের এলাকায় স্থানভেদে মোট ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও অবস্থান অনুযায়ী নদ-নদীর পানির স্তরে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় কমছে পানি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানির স্তর কমেছে। বর্তমানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আগামী সাত দিনেও এ অববাহিকার নদ-নদীর পানি সামগ্রিকভাবে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে এই সময়ে নদীগুলোর পানির স্তরে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
গঙ্গা-পদ্মায়ও পানির স্তর নিম্নমুখী
একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও কমেছে। আগামী সাত দিনে এ দুই নদীর পানির স্তর আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
নদীর পানি কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট অববাহিকায় পানির স্তর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে নদীর অবস্থাও বদলাতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারায় কমছে পানি
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির স্তরও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। বর্তমানে নদী দুটির পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন এ দুই নদীর পানি আরও কমতে পারে। এরপর ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেও এ অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানির স্তর সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী থাকতে পারে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারে স্থিতিশীল পানি
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
আগামী এক দিন পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিনে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়েও এসব নদীর পানির স্তর সামগ্রিকভাবে কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুহুরী, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর দিকে নজর
দেশের অন্যান্য প্রধান অববাহিকায় পানির স্তর কমলেও চট্টগ্রাম বিভাগের পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকার কয়েকটি নদীতে পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, গোমতী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে। এসব নদীর পানিও বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আগামী তিন দিন সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে। ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে পানির স্তর স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
নদীতীরবর্তী মানুষের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ
বর্তমান পূর্বাভাসে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকার কথা জানানো হলেও বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তরে পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নদীর পানি বৃদ্ধি, ভারী বৃষ্টিপাত কিংবা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি: ১৫ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশ কয়েকটি অববাহিকায় নদীর পানি কমছে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখা জরুরি।
**Times Express 24 | দেশ,
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই