বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদানে উদ্বেগজনক ঘাটতি, বাড়ছে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদানে উদ্বেগজনক ঘাটতি, বাড়ছে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব টিকা পাওয়া শিশুর হার কমে যাওয়ায় হাম, হুপিং কাশি ও ডিফথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, টিকাদান কার্যক্রমের পরিকল্পনা, জনবল, টিকা সংরক্ষণ এবং রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতিতে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্যসেবার একটি নিয়মিত কাজ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গুরুতর রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম প্রধান উপায়। কোনো শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেলে তার নিজের পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

কমছে পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর হার

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদানের অগ্রগতি নিয়ে করা এক স্বাধীন মূল্যায়নে দেখা গেছে, পূর্ণ টিকাসুরক্ষা পাওয়া শিশুর হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে।

মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে পূর্ণ টিকাসুরক্ষা পাওয়া শিশুর হার ছিল ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৩ সালে এই হার কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬ শতাংশে।

শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে কার্যকর সুরক্ষা দিতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান হার সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম-রুবেলার টিকা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু বাদ পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে টিকাদানের এই ঘাটতি জমতে থাকায় রোগ প্রতিরোধে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে কোথায় দুর্বলতা?

স্বাধীন মূল্যায়নে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল পরিকল্পনা, টিকা সংরক্ষণে ত্রুটি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অসংগতি।

মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইপিআইয়ের জনবলকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদিত পদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শূন্য থাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকিতে সমস্যা হচ্ছ

কোন মন্তব্য নেই