সৌদি যুবরাজকে বারবার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হুতি হামলার আতঙ্কে - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

সৌদি যুবরাজকে বারবার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হুতি হামলার আতঙ্কে


ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা বাড়ার পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কড়া নিরাপত্তায় একাধিক বাঙ্কারযুক্ত রাজপ্রাসাদের মধ্যে দফায় দফায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

গত ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির পর থেকে যুবরাজকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত একটি বাহিনী। উচ্চপর্যায়ের লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শত্রুর পক্ষে অনুমান করা কঠিন করে তুলতেই এই স্থান পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে। ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলার সময় সুরক্ষিত স্থান হিসেবে কাজ করে।

গত শনিবার সৌদি আরবে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়। একটি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও চার সৌদি, দুই বাংলাদেশি, এক মার্কিন, এক ফিলিস্তিনি এবং মিশর, জর্ডন, সিরিয়া ও সুদানের নাগরিক। হামলার জেরে টার্মিনাল-৪-এ আগুন ধরে যায়। রোববার আরেকটি হামলায় আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। গত পাঁচ দিনে চারবার ওই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। তাদের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে।

এর জবাবে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—হামলার ভয়াবহতা অনুযায়ী সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমপর্যায়ের হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানহামলায় সরাসরি যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে রিয়াদের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, ঘন ঘন হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে। ঘাটতি মেটাতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে জরুরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি হস্তক্ষেপের পর থেকেই এই সংঘাতের শুরু। ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যায়। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণের চেষ্টার সময় সৌদি বাহিনীর গুলি চালানোর অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

উত্তেজনা কমাতে ইরান ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে আলোচনা হয়েছে। তেহরান সামরিক আগ্রাসন এড়িয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই লড়াইয়ে আরব উপদ্বীপে অস্থিরতা বাড়ছে এবং এতে লাভবান হচ্ছে একমাত্র ইসরায়েল।

একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনহানি, অন্যদিকে এক দেশের শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিয়ে এমন কঠোর ব্যবস্থা—মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে।

(সূত্র: টাইমস এক্সপ্রেস ২৪ নিউজ ডেস্ক)

কোন মন্তব্য নেই