যাত্রাবাড়ীতে নারীর খণ্ডিত মরদেহ: স্বামী আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী দুলাল হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী শিরিন বেগমকে হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তাদের ছেলে সিরাজ হাওলাদার সোমবার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে দুলাল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আতিকুল ইসলাম জানান, শিরিন বেগম দীর্ঘদিন জর্ডানে ছিলেন। দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর স্বামী সন্দেহ করেন যে তিনি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া চলছিল।
ঘটনার রাতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুলাল স্ত্রীর চুল ধরে মেঝেতে আঘাত করেন। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে পরে মরদেহ চার টুকরো করেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।
তবে ছেলে সিরাজ পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে মায়ের উপার্জন করা টাকা না পাওয়ার কারণেই বাবা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবা পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। মা জর্ডানে থেকে দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতেন।
সিরাজ বলেন, “আমরা সবাই বাবার বিচার চাই। আমার বোনও তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। দাদাও বিচার চান। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক।”
পুলিশ জানায়, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকায় সম্প্রতি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন দুলাল ও শিরিন। রোববার রাতের ঘটনার পর সোমবার ভোরে বাড়ির মালিকের ফোনে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রান্নাঘরের মেঝেতে শিরিনের মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
হত্যার আগে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা, তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এক মায়ের জীবন, এক পরিবারের ভাঙন আর এক ছেলের বিচার চাওয়ার আকুতি—এই ঘটনায় মানবিক দিকটাই সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক।
(সূত্র: টাইমস এক্সপ্রেস ২৪ নিউজ ডেস্ক)

কোন মন্তব্য নেই