পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সফলতার চাবিকাঠি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পেশাগত দক্ষতা দিয়ে সফলতা নিশ্চিত করা যায় না; নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, অন্যের অনুভূতি বোঝা এবং মতবিরোধের সময় সংযত আচরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের (সিপিএস) আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে। ‘তরুণ পেশাজীবীদের পরিবার, কর্মজীবন ও আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
নেতৃত্বে আবেগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান। তিনি বলেন, জীবনে উন্নতির জন্য শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতা প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কোনো পরিস্থিতিতে একজন মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং নিজের আবেগ কতটা সংযতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন প্রকৃত নেতার দায়িত্ব কেবল অনুসারী তৈরি করা নয়, বরং অন্যদের মধ্যেও নেতৃত্বের সক্ষমতা গড়ে তোলা।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতেও প্রয়োজন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, মতপার্থক্য কিংবা অভিমান তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব পরিস্থিতিতে একে অপরের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা এবং ধৈর্য ধরে কথা বলার অভ্যাস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
বক্তৃতায় ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান ব্যক্তিগত বিকাশের পথে স্বচ্ছন্দ বলয় বা ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে মা-বাবার প্রতি যথাযথ মনোযোগ ও যত্নশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
শান্তির সূচনা ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, শান্তির ধারণা শুধু রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজেও শান্তির চর্চা প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনে মানুষের আচরণ বোঝা, মতবিরোধের কারণ উপলব্ধি করা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় জানা সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে বই পড়ার পরামর্শ দেন।
তরুণদের ব্যক্তিগত উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে তরুণদের কাছে পেশাগত দক্ষতা ও ক্যারিয়ার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনে সাফল্যের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও প্রয়োজন।
নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখা, অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, মতপার্থক্যের সময় শান্ত থাকা এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা—এসব অভ্যাস ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষে অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন সমাপনী বক্তব্য দেন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।
আলোচনার মূল বার্তা ছিল—সফল জীবন গড়তে শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা নয়, আবেগ বুঝে সঠিকভাবে আচরণ করার ক্ষমতাও প্রয়োজন। এই সক্ষমতা পরিবারে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
**T

কোন মন্তব্য নেই