প্লাস্টিক দূষণ রোধে উৎপাদকদের জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পণ্য বাজারজাত করার পাশাপাশি ব্যবহারের পর সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও উৎপাদকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পোদ্যোক্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদকদের দায়িত্ব
সেমিনারে উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর (Extended Producer Responsibility) বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ নীতির মূল ধারণা হলো, কোনো পণ্য ব্যবহারের পর সেটি থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকা।
আলোচনায় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার, পরিচ্ছন্ন উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং পরিবেশের ওপর কম প্রভাব ফেলে—এমন পণ্যের নকশা তৈরির বিষয় উঠে আসে। প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে এসব উদ্যোগ কীভাবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ইপিআর-২০২৬ নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা
প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের আগস্টে উৎপাদকদের জন্য ‘উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর-২০২৬’ শীর্ষক একটি নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সেমিনারে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিডোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মাসুদ ইকবাল মো. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
শিল্পকারখানায় পরিচ্ছন্ন উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব
সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে ইপিআর নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রকল্পের জাতীয় বিশেষজ্ঞ মাকসুদ সিনহা একটি উপস্থাপনা দেন। পরে সরকারি সংস্থা, নরওয়ের দূতাবাস এবং প্লাস্টিকশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নীতিটির কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
দিনের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে শিল্পকারখানায় সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বর্জ্য কমানো এবং পরিবেশের ওপর পণ্যের প্রভাব হ্রাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে প্লাস্টিক ও ভোগ্যপণ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
বিশেষ করে পণ্য নকশার পর্যায় থেকেই পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, পণ্যের উপাদান নির্বাচন, পুনর্ব্যবহারের সুযোগ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ইউনিডো ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এতে অর্থায়ন করছে ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস।
প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় শুধু ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; উৎপাদক, সরকার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো গেলে পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা মিলতে পারে।
Times Express 24-এর সঙ্গে থাকুন পরিবেশ, জলবায়ু ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে।

কোন মন্তব্য নেই