বরিশালে ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলির অভিযোগ, খালে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলা থেকে বাঁচতে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন ওই ঠিকাদার। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে। বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ
ঘটনার শিকার ঠিকাদার সুলতান আহমেদ বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম সালাম হাওলাদার। তিনি নুসরাত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীর জন্য জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুলতানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোহেল রানার বাড়ি মাগুরা জেলায় বলে জানা গেছে।
ফরিদ আহমেদ জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য সোহেল সেখানে আসেন। তবে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে চেক দেওয়া এবং একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানোর বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয় বলে তিনি দাবি করেন।
একপর্যায়ে সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য খালে ঝাঁপ দেন বলে জানান সাবেক এই কাউন্সিলর। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তাঁর ভাষ্য।
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঠিকাদার
ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার সুলতান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন বলে তাঁর সন্দেহ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ, গুলিবর্ষণের পরিস্থিতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত করছে পুলিশ
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তির ভূমিকা সম্পর্কে তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্বও সামনে এনেছে।
Times Express 24-এর প্রতিবেদক দল ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য পাওয়া গেলে পাঠকদের বিস্তারিত জানাবে।

কোন মন্তব্য নেই