এক কমলাগাছ বদলে দিল ভাগ্য, সাড়ে ৭ একরের খামারে ফারুকের বছরে ৩২ লাখ টাকার বিক্রি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

এক কমলাগাছ বদলে দিল ভাগ্য, সাড়ে ৭ একরের খামারে ফারুকের বছরে ৩২ লাখ টাকার বিক্রি


নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রাম: একটি কমলাগাছ থেকে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের যাত্রা। সেই স্বপ্নকে যত্ন, পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন আবু রায়হান ফারুক। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে আত্মকর্মসংস্থানের পথ হিসেবে বেছে নেওয়া এই উদ্যোক্তা এখন গড়ে তুলেছেন সাড়ে সাত একর জমির সমন্বিত কৃষি খামার। তাঁর বাগানে ফলছে কমলা, মাল্টা, আঙুর, আম, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল। পাশাপাশি উৎপাদন করছেন উন্নত জাতের ফলের চারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মুক্তারাম গ্রামের এই কৃষি উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, গত বছর তাঁর খামার থেকে ফল ও চারা বিক্রি করে প্রায় ৩২ লাখ টাকার আয় হয়েছে। বাগান ও নার্সারিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। একসময় যে কৃষি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সেই উদ্যোগ এখন স্থানীয় মানুষের জীবিকা অর্জনেরও একটি মাধ্যম।

একটি কমলাগাছ থেকেই স্বপ্নের শুরু

২০১৮ সালে বগুড়ায় বেড়াতে গিয়ে একটি কমলাগাছ দেখে আগ্রহ জন্মায় ফারুকের। পরে কুড়িগ্রামের একটি নার্সারি থেকে একটি কমলার চারা কিনে বাড়ির আঙিনায় লাগান তিনি। পরের বছর গাছে ফল আসে। পরিবারের সদস্যরা সেই কমলার স্বাদে সন্তুষ্ট হলে বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা মাথায় আসে তাঁর।

এরপর নার্সারি থেকে শতাধিক কমলার চারা সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। প্রথম বাণিজ্যিক ফলন থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করতে সক্ষম হন তিনি। সেই সাফল্যই তাঁকে আরও বড় পরিসরে বাগান গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেয়।

উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করার পর প্রচলিত চাকরির পথে না গিয়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন ফারুক। ধীরে ধীরে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাড়াতে থাকেন বাগানের পরিধি। বর্তমানে তাঁর খামারে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত জাতের চারা তৈরির কাজও চলছে।

কমলা ও মাল্টা চাষে বাড়ছে উৎপাদন

ফারুকের খামারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কমলার বাগান। বর্তমানে প্রায় দুই বিঘা জমিতে কমলার গাছ রয়েছে তাঁর। এসব গাছ থেকে চলতি বছরে প্রায় তিন লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কমলার চারা বিক্রি থেকেও এসেছে প্রায় তিন লাখ টাকা।

কমলা ও মাল্টার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ পরিচর্যা করছেন তিনি। ভালো ফলন পাওয়া গাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে কলম পদ্ধতিতে নতুন চারা তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে বাগানের পরিধি বাড়ছে, অন্যদিকে চারা বিক্রির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।

ফারুকের মতে, পরিকল্পিতভাবে ফলের বাগান গড়ে তুলতে পারলে কৃষি শুধু পারিবারিক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়, বরং লাভজনক ব্যবসা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

কুড়িগ্রামে বাণিজ্যিক আঙুর চাষের উদ্যোগ

কমলার পাশাপাশি আঙুর চাষেও সাফল্য পেয়েছেন এই উদ্যোক্তা। ২০২১ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা কয়েকটি জাতের প্রায় ২০০টি আঙুরের চারা দিয়ে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমে

কোন মন্তব্য নেই