সৌদি আরামকোর দাহরান কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন
![]() |
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬
রিয়াদ: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের ব্যাপ্তি ছিল সীমিত এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে কী ঘটেছিল
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, দাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। আগুনের বিস্তার সীমিত ছিল এবং হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আরামকোর একটি সূত্রের দাবি, কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, কমপ্লেক্সের একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
দাহরানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দাহরানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকায় পড়ে। তবে ধ্বংসাবশেষের কারণে সেখানে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দাহরানের এই ঘটনা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আরামকো সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন কার্যক্রমের সঙ্গে দাহরান কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
রিয়াদেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রাজধানীর অন্তত ১৫টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ও দৈনন্দিন জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়লে হতাহতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে।
এর আগে হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর এবং রিয়াদের একটি তেল শোধনাগারের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে দাহরানের সাম্প্রতিক হামলার দায় কারা নিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ঘটনাটিকে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির তেল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বাড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে দাহরানের এই ঘটনার কারণে তেল উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দাহরানের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব সামরিক স্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন গুরুত্বপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই