রাজধানীর বাজারে কিছুটা কমেছে সবজির দাম, তবু নাগালের বাইরে বহু পণ্য - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

রাজধানীর বাজারে কিছুটা কমেছে সবজির দাম, তবু নাগালের বাইরে বহু পণ্য

 


নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24

রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি পুরোপুরি। উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন করে সবজি আসতে শুরু করায় দাম আরও কমার আশা করছেন বিক্রেতারা। তবে টমেটো, শিম, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি এখনো তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আদা-রসুনের দাম বেড়েছে, আর মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের উচ্চ দামেও চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কেজিতে ৩০ থেকে ১৬০ টাকা, সবজির দামে বড় ব্যবধান

বাজারে পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা এবং চায়না গাজর ১২০ টাকায়।

বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া হাইব্রিড পটল ৬০ টাকা, দেশি পটল ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি।

হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, লাউ আকার ও মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবুর দাম ৪০ টাকা।

উত্তরবঙ্গের সবজি আসায় দাম কমার আশা

বাজারের বিক্রেতা মো. শাহ আলম জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন করে সবজি আসতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। তাঁর আশা, সরবরাহ বাড়তে থাকলে কিছু সবজির দাম আরও কমতে পারে।

তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগেও শিম প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। তবে যেসব সবজির মৌসুম এখন নয়, সেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা কাউসার হোসেনের মতে, কিছু সবজির দাম কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য বাজার এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। তাঁর বক্তব্য, সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলে তবেই দাম কমার সুফল অধিকাংশ মানুষ অনুভব করবেন।

আদা-রসুনের দাম বেড়েছে, পেঁয়াজও ৬০ টাকা

সবজির দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও আদা ও রসুনের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দুই দিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।

বাজারে দেশি ও ক্রস জাতের পেঁয়াজ—দুই ধরনের দামই কেজিপ্রতি ৬০ টাকা। এর আগে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

চায়না রসুনের দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। দেশি রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। অন্যদিকে লাল ও সাদা আলু ৩০ টাকা এবং বগুড়ার আলু ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা মো. ইউসুফ আদার দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, অল্প সময়ের ব্যবধানে পাইকারি দামে আদার দর বেড়েছে। তাঁর প্রশ্ন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও কেন দাম বাড়ছে।

ডিমের দাম সামান্য কমলেও মুরগি ও মাংস চড়া

বাজারে ডিমের দামে সামান্য কমতি দেখা গেলেও মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দাম এখনো বেশি।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিমের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকা। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা সামিউল ইসলাম জানান, ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তাঁর মতে, এ সময়ে দাম কমার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হয়েছে।

মাছ কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

মাছের বাজারেও অনেক প্রজাতির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। আকার ও ওজনভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কালিবাউশের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বাতাসি মাছ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, কাজলি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মেনি মাছের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি।

উচ্চ দামেই স্থির মুদি পণ্যের বাজার

সবজি, মাছ ও মাংসের পাশাপাশি মুদি পণ্যের উচ্চ দামও ক্রেতাদের ব্যয় বাড়াচ্ছে। বাজারে প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৫ টাকা। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ২২০ টাকায়। চিনি প্রতি কেজি ১১০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকা।

মসলার বাজারেও রয়েছে উচ্চ দাম। প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, জিরা ৫০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি

উত্তরবঙ্গ থেকে সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করলেও বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এখনো স্বস্তি নেই। একদিকে কিছু সবজির দাম কমছে, অন্যদিকে আদা-রসুনের মতো পণ্যের দাম বাড়ছে। মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের উচ্চ দামও অব্যাহত রয়েছে।

ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সামলাতে এখনো হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরতে হলে শুধু কয়েকটি সবজির দাম কমা নয়, বরং প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসা জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই