রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর
রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটায় ১৫-২০ জনের একটি দল।এদিকে এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে থানায় মামলা করেছে কলেজ প্রশাসন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, গত বুধবার দুপুরে ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি পরিচয়ধারী এক ছাত্রসহ আরো কয়েকজন ছাত্র এসে আমাকে বলে, স্যার জামিল আক্তার রতনের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য আপনাকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ওই ছাত্ররা এসে আমার অনুপস্থিতে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।
ওই সময় আমি ক্লাসে ছিলাম বলে জানান অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষ আরো বলেন, নগর সাধারণ সম্পাদক স¤্রাট রায়হান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ওহিদুর রহমান ওহিসহ বেশ কয়েক জন এ ঘটনার সাথে জড়িত। ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী মহানগর সভাপতি এ.এইচ.এম জুয়েল খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ ব্যাপারে নগর সাধারণ সম্পাদক স¤্রাট রায়হান জানান, কে বা কারা একাজ করেছে এবিষয়ে অবগত না, তবে এ কাজ যারাই করুক না কেন ভালো করেনি। যদি আমাদের সংগঠনের কেউ এর সাথে জড়িত থাকে তবে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।
সেই সাথে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় ৫-৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছে কলেজ প্রশাসন। মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ। বিক্ষোভ মিছিল শেষে কলেজের প্রশাসন ভবনের সামনে পথসভায় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম। এসময় তিনি বলেন, এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড কোন ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের কোন ছাত্রত্ব নেই। তারা কোন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী হতে পারে না। তা না হলে তারা কলেজের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারত না। আমি এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি এবং এদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টামূলক শাস্তির আহ্বান জানাচ্ছি।
TE

কোন মন্তব্য নেই