‘ইভিএম মেশিনে ভোট দেয়া সহজ’
রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় প্রাঙ্গনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনী মেলার আয়োজন করা হয় শনিবার। ইভিএম মেশিন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি ও ভোট প্রদান পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে প্রশিক্ষণ দিতেই শনিবার দিনব্যাপি এই মেলার আয়োজন করা হয়।
লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া থেকে মেলায় এসেছেন পঞ্চশোর্ধর্দ্ব হোসনে আরা। মেলা প্রাঙ্গনে ৬টি স্টলেই সাজান রয়েছে ইভিএম মেশিন। আর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সেই মেশিনের মাধ্যমে কিভাবে ভোট দিতে হয় তা উৎসুক দর্শনার্থীদের শিখিয়ে দিচ্ছেন। হোসনে আরা তিন নম্বর কাউন্টারের কাছে এসে কাউন্টারে থাকা এক কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে করে বললেন, সারা জীবন তো ব্যালটেই ভোট দিয়ে আসলাম। এখন আবার কী নতুন নিয়ম আসলো দেখি। মেশিনে ভোট দিতে হয় কী ভাবে? দেখান তো!
কাউন্টারে থাকা কর্মকর্তা হোসনেআরাকে ইভিএম সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিয়ে বলেন, এই মেশিনের মাধ্যমে আপনার ভোট শুধু মাত্র আপনিই দিতে পারবেন। আপনার আঙ্গুলের ছাপ মেশিন নিশ্চিত করার পরই কেবর মাত্র ভোট দেয়ার জন্য মেশিন প্রস্তুত হবে। তার আগে কেউই মেশিনে ভোট দিতে পারবে না। আবার আপনার আঙ্গুলের ছাপ পাবার পর মেশিনের সঙ্গে লাগানো কম্পিউটারে আপনার (ভোটারের) ছবি দেখতে পারবেন। এথেকে নিশ্চিত হওয়া যাবে আঙ্গুলের ছাপ দেয়া ব্যক্তিটি আপনি না অন্য কেউ।
এরপর ভোটকেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা আপনার ছবি দেখে নিশ্চিত হয়ে ব্যালট মেশিনের দিকে যেতে আপনাকে অনুমতি দিবে। এরপর আপনি ব্যালট মেশিনের কাছে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকের সঙ্গে লাগান বাটন বা সুইচে চাপ দিবেন। ব্যালট মেশিনের নিচের দিকে লাল ও সবুজ বাটন রয়েছে। লাল বাটনটি ভোট বাতিল বা ভুল এবং সবুজ বাটনটি গ্রহণ বা ঠিক হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনি আপনার কাঙ্খিত বা সঠিক প্রতীকের বাটনে চাপ দিয়েছেন তবে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সবুজ বাটনে চাপ দিবেন। তাহলেই আপনার সফল ভাবে ভোট দেয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। আর যদি মনে করেন ভুল প্রতীকের বাটনে চাপ দিয়েছেন তবে, প্রতীক বাটনে চাপ দেবার ১০ সেকেন্ডের মধ্যে লাল বাটনে চাপ দিবেন। তাহলে মেশিন আপনাকে পুনরায় পছন্দসই প্রতীক বাছাই করতে সহযোগীতা করবে। এক্ষেত্রে প্রতীক বাছাইয়ের বাটন চাপ দেবার পর ১০ সেকেন্ডটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন কারণে ভুল প্রতিকের বাটনে চাপ দিয়ে ১০ সেকেন্ড অতিবাহীত হয়ে গেলে আপনা ভোট সেই প্রতীকের ঘরেই চলে যাবে। হোসনেআরা এতক্ষণ ধরে চুপ করে সব দেখলো ও শুনলো। সব শেষে বললো, মেশিনে ভোট দেয়া এতো সহজ!

কোন মন্তব্য নেই