মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য সাবসিডিয়ারি গঠন করছে ইউসিবি
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এসএফএস) সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। সাবসিডিয়ারিতে মূল প্রতিষ্ঠান ইউসিবির ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে। আর বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক প্রসার ও সম্ভাবনার কারণে ব্যাংকটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী হয়েছে বলে এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে, প্রাথমিক পর্যায়ে সাবসিডিয়ারিটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি। তবে পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিনিয়োগ শর্তানুসারে মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের কারণ জানতে চাইলে ইউসিবির কোম্পানি সচিব এটিএম তাহমিদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। তাই যুগের সঙ্গে নিজেদের আপ টু ডেট রাখতে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জনগোষ্ঠী এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছে। ফলে তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা বহুগুণে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হলে ব্যবসাটি আরো বেগবান হবে বলেই আমি আশা করছি।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৮ পয়সা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা। এদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ২৭ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ইউসিবি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ইউসিবি। সে হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয় ২ টাকা ৪৯ পয়সা। ২০১৫ হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ইউসিবি। ২০১৪ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
ডিএসইতে গতকাল ইউসিবি শেয়ারের সর্বশেষ দর ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বা ৫০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকায়। দিনভর দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৭ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। যা এর আগের কার্যদিবসে ছিল ১৬ টাকা ৫০ পয়সা। এদিন ৯৬ বারে কোম্পানিটির মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ১০৬টি শেয়ারের লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ১৫ টাকা ৭০ পয়সা ও সর্বোচ্চ দর ২৫ টাকা ৩০ পয়সা।
১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে আসা ইউসিবির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছে, বাংলাদেশ সরকারের হাতে দশমিক ৮১, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৮ দশমিক ৮৭, বিদেশী ১ দশমিক ৮৪ এবং বাকি ৪৩ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৬ দশমিক ৫১। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৭ দশমিক শূন্য ৮।

কোন মন্তব্য নেই