প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললো বিএনপি - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললো বিএনপি


নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ আহ্বান জানান।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলবাজ নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কখনোই সাহসী হতে পারবে না। মূলত জাল-জোচ্চুরি-প্রহসনের ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সুস্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি অমান্য করলেও নির্বাচন কমিশন তাতে কর্ণপাত না করে নির্বাচন নিয়ে সরকারের গোপন মিশনগুলির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছে। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন কমিশনের পক্ষে বিধিভঙ্গকারী প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। তবে এখনো সময় আছে, নিজেদেরকে সরকারের ছাতার নিচে থেকে বের করে জনগণের ছাতার তলে আসুন। জনগণের হরণকৃত ভোটারাধিকার ফেরত দেয়ার চেষ্টা করুন। আশা করবো, বিধিভঙ্গের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করবেন।

রিজভী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আচরণ বিধির ১৪ ধারায় বলা আছে, সরকারের সু্বধিাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তার সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনী কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেড়শো সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার যে অঙ্গীকার করেছেন তা কি আচরণ বিধি ভঙ্গ নয়? কেন না সেদিনের অনুষ্ঠানটি সরকারি কোন কর্মসূচি ছিল না। সরকারের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রীয় ভবন গণভবনকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে বিতর্কিত করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্বাচনী আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে, সরকার একতরফা ও ভোটারশুন্য নির্বাচনের পথেই হাঁটছে।



রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্মান করতে দিচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রহমানসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যেসব কটুক্তি করেছেন তা অরুচিকর, অশ্রাব্য ও উস্কানিমূলক। তফশীল ঘোষনার পর প্রধানমন্ত্রী এ ধরণের বক্তব্য দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির ১১ ধারায় বলা আছে, কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত কেউ বা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি উস্কানীমুলক বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করতে পারবেন না। ঐ ধারা উপ-ধারা (ক) তে উল্লেখ আছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য প্রদান বা কোন ধরণের তিক্ত (উস্কানিমুলকক বা মানহানিকর) বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না। যদিও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী বর্তমানে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ তবু এই উস্কানীমুলক বক্তব্য প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।



বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আপনারা জানেন যে, তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় ভবন গণভবনে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণভবনে সাক্ষাতকার নিয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একতরফা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্ল্যান করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের নানা ধরণের নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধির ১৪ (২) ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী গণভবনের মতো একটি রাষ্ট্রীয় ভবনে থেকে জনবিরোধী কার্যকলাপ এবং জনগণের ভোটারাধিকার হরণের ষড়যন্ত্র কোনভাবেই করতে পারেন না।

কোন মন্তব্য নেই