উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত গেলেন চামেলী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে গেলেন চামেলী খাতুন। শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে সে ভরতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। চামেলীর সঙ্গে তার বোনের মেয়ে ও ছেলে রয়েছেন। চামেলীর অস্ত্রোপচার করা হবে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণী হাসপাতালে।
গণমাধ্যমে রাজশাহীর চামেলীর অসুস্থতার কথা প্রচার হলে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর তার চিকিৎসার সব ভার নেন। সাবেক এই নারী ক্রিকেটার এতদিন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলায় ২১৬ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক নিজেই তার চিকিৎসার সম্পর্কে তদারকি করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ২ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্লেনে করে ঢাকায় আনা হয় চামেলীকে। ঢাকায় আনার পর বিসিবির তত্ত্বাবধানেই তাকে ভর্তি করা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে। ২১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছেন চামেলী।
অর্থোপেডিক হাসপাতালে চামেলীর সঙ্গে থাকা তার বড় বোনের মেয়ে মুশফিকা রোজী বাংলানিউজকে জানান, ঢাকায় আনার পর চামেলীর এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে চামেলীর মেরুদণ্ডে সমস্যা রয়েছে। এছাড়া তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। তবে দেশেই চামেলীর চিকিৎসা সম্ভব। এরপরও আবার মাঠে খেলার জন্য উপযুক্ত হতে ভারতে যেতে চান চামেলী।
জানতে চাইলে চামেলী খাতুন জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর থেকে তার চিকিৎসা শুরু হয়। বিসিবির পক্ষ থেকে ট্রেইনাররা নিয়মিত এসে তার চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও তার দু’দিন আগে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা তাকে দেখে গেছেন। প্রতিমন্ত্রী তার ভারতের যাওয়ার ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া বিসিবির প্রধান নির্বাহী (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। চিকিৎসা শুরুর জন্য তাকে বিসিবির পক্ষ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা দিয়ে যান।
চামেলী বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও মাঠে ফিরতে চান। তাই ভারতের বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছেন। আজ তার ভাগনে ও ভাগনিকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। এজন্য চামেলী প্রধানমন্ত্রী ও বিসিবিসহ যারা যেভাবে তাকে সহায়তা করেছেন সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া তার জন্য দোয়া করার জন্য অনুরোধ করেন।
এদিকে, জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, তার চিকিৎসা সম্পর্কে বিসিবি নিয়মিত তদারকি করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার ভারত যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা করা হবে।
চামেলী বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের হয়ে ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাঠ মাতিয়েছেন। শুধু নারী দল নয় সমানতালে খেলেছেন ফুটবলও। পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সেও ছিলেন সমান পারদর্শী। ২০১০ সালে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের রানার আপ হওয়া দলের হয়ে মাঠ মাতান চামেলী। কিন্তু আট বছর থেকে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়াসহ মেরুদণ্ডের হাড়ের ব্যথা নিয়ে বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছেছেন। মেরুদণ্ডে দুই হাড়ের ফাঁকে থাকা নরম ডিস্কগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অবশ হয়ে যাচ্ছে তার পুরো ডান পাশ। বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে চিকিৎসার ভার নেন প্রধানমন্ত্রী।

কোন মন্তব্য নেই